27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড মালিকানা দাবি এবং ডেনমার্কের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড মালিকানা দাবি এবং ডেনমার্কের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডাভোস)‑এ গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে তাত্ক্ষণিক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি উস্কে দিয়েছেন। একই সময়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন একদিন পরে এই দাবির ওপর স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন, যেখানে তিনি ডেনমার্ক‑গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কের স্বায়ত্তশাসনকে অগ্রাধিকার দেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন, তবে বলপ্রয়োগের ইঙ্গিত না দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন। তিনি যুক্তি দেন, অতিরিক্ত শক্তি না ব্যবহার করলে ফলাফল অনিশ্চিত, তবে বলপ্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিরোধ্য হবে—এমন মন্তব্যের পরেও তিনি বলপ্রয়োগের ইচ্ছা না প্রকাশ করেন।

ডেনমার্কের মেটে ফ্রেডেরিকসেনের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিষয়গুলোতে কেবল দুই দেশেরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি ন্যাটো জোটের আর্কটিক নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্ব উল্লেখ করে, এই বিষয়গুলো ন্যাটোর মহাসচিব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর সঙ্গে আর্কটিকের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ডেনমার্কের আর্কটিক নীতি ন্যাটোর সামগ্রিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সংলাপ অপরিহার্য।

ফ্রেডেরিকসেন আরও জানান, গ্রিনল্যান্ডের সরকার এবং ন্যাটো নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তবে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আলোচনা করা সম্ভব নয়, কারণ এটি ডেনমার্ক‑গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত সম্পর্কের মৌলিক নীতি।

ডেনমার্কের অবস্থান স্পষ্ট যে, আর্কটিকের নিরাপত্তা জোরদার করতে গিয়ে আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ডেনমার্ক তার মিত্রদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে অংশ নিতে চায়, যেখানে আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্ব এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সমন্বিত সমাধান খোঁজা হবে।

ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের উপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো অনুমতি নেই। পূর্বে ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও সামরিক সহযোগিতার বিকল্প প্রদান করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি গঠিত হয়নি।

ট্রাম্পের দাভোসে বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য বলে পুনরায় জোর দেন। তবে তিনি বলপ্রয়োগ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কূটনৈতিক পথেই সমাধান খোঁজার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ডেনমার্কের সরকার এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো ও ন্যাটোর সমন্বিত নীতি সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। ফ্রেডেরিকসেনের মতে, আর্কটিকের নিরাপত্তা কেবল ন্যাটো জোটের বিষয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয়েও থাকা উচিত, যাতে অঞ্চলগত স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে, আর্কটিকের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শর্তে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা করা হবে না।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ডেনমার্ক ন্যাটো এবং অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে আর্কটিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কূটনৈতিক আলোচনা বাড়াবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের উপর আগ্রহের প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কের কূটনৈতিক নীতি কীভাবে বিকশিত হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments