লরা হোল্ডেন, যিনি পূর্বে এবোর্ডিনের মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতেন এবং বর্তমানে স্বিনডন টাউনের সদস্য, তার ক্যারিয়ারে সি এল আঘাতের ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দুই বছর ধরে এবোর্ডিনে কাটানো সময়ে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, তা নারী ফুটবলে সমানভাবে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
হোল্ডেন আগস্ট ২০২৩-এ এবোর্ডিনে যোগ দেন এবং স্কটিশ উইমেনস প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বড় ক্লাবের মূল খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রাখেন। তবে প্রথম মৌসুমের ছয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩১ মিনিট খেলার পর হিবার্নিয়ানের বিরুদ্ধে খেলা চলাকালে তার অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ফাটে যায়।
এই আঘাতের ফলে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা শারীরিকভাবে কঠিন হলেও হোল্ডেনের জন্য মানসিকভাবে আরও বড় পরীক্ষা হয়ে ওঠে। তিনি জানান, ক্লাবের কোচিং ও ফিজিওথেরাপি টিমের যথাযথ সমর্থন না পাওয়ায় তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি দ্রুত ঘটেছিল।
২০২৫ সালে হোল্ডেন এবোর্ডিন ছেড়ে স্বিনডন টাউনে স্থানান্তরিত হন। নতুন পরিবেশে তিনি শারীরিক পুনরুদ্ধার চালিয়ে গেছেন এবং একই সঙ্গে ক্লাবের পরিবর্তন তাকে অতীতের কষ্টগুলো পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দিয়েছে। স্বিনডনে তার লক্ষ্য শুধু মাঠে ফিরে আসা নয়, বরং তার অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্য খেলোয়াড়দের রক্ষা করা।
স্বিনডন টাউনে যোগদানের পর হোল্ডেন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়দের সংস্থা (PFA) এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংস্থা তাকে মানসিক পরামর্শের সেশন প্রদান করে, যা তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি উল্লেখ করেন, পুনর্বাসনের সময় মানসিক চাপ তাকে অজান্তেই গভীর বিষণ্নতায় নিয়ে যায়।
হোল্ডেনের মতে, পুনর্বাসনের সময় যে পরিবেশ ও মানুষদের সঙ্গে তিনি মিথস্ক্রিয়া করছিলেন, তা তার জন্য সহায়ক ছিল না। তিনি বলেন, “পুনর্বাসন আমাকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল, যদিও আমি তা বুঝতে পারিনি।” তিনি স্বীকার করেন, নিজের সমস্যার প্রকৃত মাত্রা বুঝতে সময় লেগেছিল, এবং তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি গভীর বিষণ্নতার মধ্যে ছিলেন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে হোল্ডেন নারী ফুটবলে অনুরূপ সমস্যার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, অনেক খেলোয়াড় একই ধরনের অবহেলা ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে পারেন, যা এখনো যথাযথভাবে আলোচিত হয় না। তার মতে, ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড়ের শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এবোর্ডিনের প্রতি হোল্ডেনের অভিযোগের পর গার্ডিয়ান সংবাদপত্র ক্লাবকে প্রশ্নপত্র পাঠায়, তবে এবোর্ডিন থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।
স্বিনডন টাউন বর্তমানে লিগের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হোল্ডেনের উপস্থিতি দলকে মিডফিল্ডে নতুন শক্তি যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার পুনরুদ্ধার ও পারফরম্যান্স কেমন হবে তা নজরে থাকবে, বিশেষ করে নারী ফুটবলের উন্নয়ন ও খেলোয়াড়ের কল্যাণের দৃষ্টিকোণ থেকে।
হোল্ডেনের গল্প নারী ফুটবলে নিরাপদ ও সমর্থনমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে। তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখে ক্লাব ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে খেলোয়াড়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমন্বিত যত্ন নিশ্চিত করতে হবে।



