Snap Inc. দুই দিন আগে একটি মামলায় সমঝোতা করার পর, Snapchat-এ পিতামাতা ও অভিভাবকদের জন্য নতুন পর্যবেক্ষণ টুল ‘Family Center’ চালু করেছে। এই আপডেটের মাধ্যমে বাবা-মা তাদের সন্তান কত সময় অ্যাপ ব্যবহার করছে এবং কোন নতুন বন্ধু যুক্ত করেছে তা বিস্তারিতভাবে দেখতে পারবেন।
নতুন ফিচারটি ব্যবহারকারীকে গত সপ্তাহের প্রতিদিনের গড় স্ক্রিন টাইম দেখায়, এবং তা বিভিন্ন সেকশনে ভাগ করে উপস্থাপন করে। চ্যাট, স্ন্যাপ পাঠানো, ক্যামেরা দিয়ে কন্টেন্ট তৈরি, Snap Map ব্যবহার, Spotlight ও Stories-এ সময় ব্যয় – সবই আলাদা করে দেখা যায়।
‘Family Center’ পূর্বে কেবল বন্ধু তালিকা দেখাত, এখন তা সম্প্রসারিত হয়ে নতুন যুক্ত বন্ধুর সঙ্গে টিনেজার কীভাবে পরিচিত হতে পারে তা প্রকাশ করে। পারস্পরিক বন্ধু, সংরক্ষিত ফোন কন্ট্যাক্ট, অথবা একই কমিউনিটিতে থাকা তথ্য পিতামাতা দেখতে পারবেন।
Snap কোম্পানি এই পরিবর্তনকে ‘বিশ্বাসের সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা পিতামাতাকে নতুন সংযোগের প্রকৃতি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় কথোপকথন শুরু করতে সহায়তা করবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বাবা-মা তাদের সন্তানকে নিরাপদ অনলাইন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
‘Family Center’ প্রথমবার ২০২২ সালে চালু হয়েছিল, যখন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নাবালকদের সুরক্ষা নিয়ে নিয়ন্ত্রক চাপ বাড়ছিল। সেই সময় থেকে Snap ধারাবাহিকভাবে টুলটি উন্নত করে আসছে, যাতে পিতামাতা আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
বর্ধিত ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে টিনেজারদের সাম্প্রতিক ইন্টারঅ্যাকশন দেখার সুবিধা, ব্যবহার সময় সীমা নির্ধারণের অপশন, এবং অ্যাপের My AI চ্যাটবটের অ্যাক্সেস ব্লক করার ক্ষমতা। এসব ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
এই আপডেটের সময়সীমা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি একই সপ্তাহে একটি মামলার সমাধানের পর প্রকাশিত হয়। আদালতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ (কেস ডকুমেন্টে K.G.M. নামে উল্লেখ) দাবি করেছিল যে Snapchat তার সামাজিক মিডিয়া আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার মূল কারণ।
Snapchat-এর এই পদক্ষেপটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পিতামাতা এবং ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্ক্রিন টাইম ও নতুন সংযোগের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে প্ল্যাটফর্মটি নাবালকদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্য সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোরও অনুরূপ ফিচার যোগ করার চাপ বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল পরিবেশে নাবালকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।



