ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুই প্রধান প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হক তাদের প্রচারাভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছেন। উভয় প্রার্থীই একই দিনে ভোরবেলায় ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করেছেন।
এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত গুলিবর্ষণের শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার প্রচার শুরু করেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে, তাদের কষ্ট ও ত্যাগকে নির্বাচনের মূল থিম হিসেবে তুলে ধরতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিকাল বেলা, ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের ক্যাম্পাসে হাজ্জাজ শহীদ শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। ফারহানের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলে, তাদের কষ্টের কথা শোনার পর তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
হাজ্জাজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ফারহানের পরিবারকে ‘অপূরণীয় কষ্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে, শহীদদের ত্যাগের জন্য জাতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি তিনি জয়ী হন, তবে ফারহানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
ফারহান ফাইয়াজ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডি এলাকায় গৃহীত প্রতিবাদে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ঐ দিনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘জুলাই গুলিবর্ষণ’ নামে পরিচিত, যেখানে বহু তরুণ সক্রিয় কর্মী ও নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তার মৃত্যু দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে।
একই দিনে বিকাল ৩টায় মোহাম্মদপুরের শহীদ পার্ক মাঠ (টাউন হল) এ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক একটি বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশে স্থানীয় সমর্থক ও দলীয় কর্মীরা বৃহৎ সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন এবং হকের ভাষণ চলাকালীন উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
মামুনুল হকের সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসাইন এবং জামায়াতে ইসলামের শফিউর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারাও অংশ নেন। তারা হকের সঙ্গে মিলিত হয়ে নির্বাচনী ঐক্যের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভোটারদের সমর্থন আহ্বান করেন। সমাবেশটি এখনও চলমান, যেখানে হক ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তার নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
দুই প্রার্থীর একই দিনে প্রচার শুরু করা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৩ আসনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে এই সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ববি হাজ্জাজের শহীদ পরিবারের সঙ্গে সংযোগ ও জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত গুলিবর্ষণের স্মৃতি ব্যবহার করা তার সমর্থকদের মধ্যে আবেগিক সাড়া জাগাতে পারে। অন্যদিকে, মামুনুল হকের বৃহৎ সমাবেশ ও জোটের ঐক্য তার ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোরও এই দুই প্রার্থীর প্রচারাভিযানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। শহীদ পরিবারের সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক মঞ্চে তুলে ধরা এবং জোটের সমন্বিত র্যালি উভয়ই ভোটারদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
আগামী সপ্তাহে ঢাকা-১৩ আসনে আরও র rally, সভা ও ঘাঁটিতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া প্রত্যাশিত। উভয় প্রার্থীই তাদের নির্বাচনী পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও নিরাপত্তা নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে প্রস্তুত। ভোটারদের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান ও জোটের ঐক্যের ওপর নির্ভর করবে।
এই প্রচারাভিযানের ফলাফল দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শহীদ পরিবার ও গুলিবর্ষণের স্মৃতি কীভাবে ভোটারদের মধ্যে সংবেদনশীলতা জাগায় তা নির্ধারণ করবে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে উভয় প্রার্থীর কৌশল ও বার্তা কতটা কার্যকর হবে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক গতিবিধিতে স্পষ্ট হবে।



