সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক চিপ-আইপি স্টার্ট‑আপ কোয়াড্রিক, প্রাথমিকভাবে বিটকয়েন মাইনিং কোম্পানি ২১ই৬-এর অভিজ্ঞ দল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, ক্লাউডের বদলে ডিভাইসের মধ্যে AI চালানোর প্রযুক্তি বিকাশে মনোযোগ দিচ্ছে। সরকার ও শিল্পখাতে ক্লাউড খরচ কমিয়ে স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পদ্ধতির গুরুত্ব বাড়ছে।
কোয়াড্রিকের অন‑ডিভাইস ইনফারেন্স সমাধান এখন অটোমোটিভের বাইরে ল্যাপটপ, শিল্প যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য এন্ড‑ডিভাইসে প্রসারিত হচ্ছে। কোম্পানি নিজে চিপ উৎপাদন না করে প্রোগ্রামেবল AI প্রসেসর আইপি লাইসেন্সের মাধ্যমে গ্রাহকদের নকশা ভিত্তিক সমাধান প্রদান করে। এই মডেলটি গ্রাহকদের নিজেদের হার্ডওয়্যারে AI ক্ষমতা সংযোজনের সুযোগ দেয়, যা ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে।
২০২৪ সালে কোয়াড্রিকের লাইসেন্সিং আয় প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার ছিল, যা ২০২৫ সালে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানি এই বছর মোট ৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় লক্ষ্য করেছে, যা অন‑ডিভাইস AI ব্যবসার দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। এই আর্থিক উন্নতি কোম্পানির মূল্যায়নেও প্রভাব ফেলেছে; পোস্ট‑মানি মূল্যায়ন এখন ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা ২০২২ সালের সিরিজ বি রাউন্ডে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
সম্প্রতি কোয়াড্রিক একটি সিরিজ সি ফান্ডিং রাউন্ড সম্পন্ন করে ৩০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই রাউন্ডটি ACCELERATE ফান্ডের নেতৃত্বে, যা BEENEXT ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট পরিচালনা করে। মোট তহবিল এখন ৭২ মিলিয়ন ডলার, যা কোম্পানির গবেষণা ও বাজার সম্প্রসারণে ব্যবহার হবে। বিনিয়োগকারীরা AI ওয়র্কলোডকে কেন্দ্রীয় ক্লাউড থেকে এন্ড‑ডিভাইস ও লোকাল সার্ভারে স্থানান্তরের প্রবণতাকে সমর্থন করছেন।
কোয়াড্রিকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ভীরভান খেতারপাল উল্লেখ করেছেন, ট্রান্সফরমার‑ভিত্তিক মডেলের বিস্তার ২০২৩ সালে ইনফারেন্সের চাহিদা সব ধরনের ডিভাইসে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে, কোম্পানির ব্যবসা গত এক বছর ও অর্ধে তীব্র পরিবর্তনের মুখে। তিনি Nvidia-কে ডেটা‑সেন্টার AI-র জন্য শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে, অন‑ডিভাইস AI-র জন্য সমতুল্য CUDA‑সদৃশ প্রোগ্রামেবল অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।
কোয়াড্রিকের প্রযুক্তি অটোমোটিভ ক্ষেত্রে প্রথমে প্রয়োগ করা হয়, যেখানে রিয়েল‑টাইম ড্রাইভার সহায়তা সিস্টেমের জন্য অন‑ডিভাইস AI অপরিহার্য। তবে, ট্রান্সফরমার মডেলের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রযুক্তি এখন ল্যাপটপ, রোবট, শিল্প স্বয়ংক্রিয়তা এবং অন্যান্য এন্ড‑ডিভাইসে ব্যবহার হচ্ছে। গ্রাহকরা আইপি লাইসেন্স গ্রহণ করে নিজেদের চিপ ডিজাইনে AI ক্ষমতা সংযোজন করতে পারে, যা পারফরম্যান্স ও শক্তি দক্ষতা উভয়ই বাড়ায়।
কোম্পানির পুণে, ভারতেও একটি অফিস রয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও প্রতিভা ব্যবহার করে গবেষণা ও বিক্রয় কার্যক্রম চালায়। এই আন্তর্জাতিক উপস্থিতি কোয়াড্রিককে বৈশ্বিক গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক পরিবেশে স্বায়ত্তশাসন গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
অন‑ডিভাইস AI সমাধান ক্লাউডের উচ্চ ব্যান্ডউইথ ও লেটেন্সি সমস্যার সমাধান দেয়, ফলে রিয়েল‑টাইম অ্যাপ্লিকেশনগুলো দ্রুত ও নিরাপদে কাজ করতে পারে। এছাড়া, ডেটা স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা গোপনীয়তা রক্ষা করে এবং ডেটা সেন্টার পরিচালনার খরচ কমায়। এই সুবিধাগুলো সরকারী সংস্থা ও সংবেদনশীল শিল্পখাতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কোয়াড্রিকের ব্যবসা মডেলটি চিপ নির্মাতা ও সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। আইপি লাইসেন্সের মাধ্যমে তারা নিজেদের চিপে AI ফাংশন সংযোজন করে পণ্যকে পার্থক্যপূর্ণ করতে পারে, যা বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেয়। একই সঙ্গে, কোয়াড্রিকের রোয়ালটি‑ড্রিভেন মডেল গ্রাহকদের বিক্রয় পরিমাণের সঙ্গে আয় বাড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, AI‑এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ডেটা প্রাইভেসি নিয়মের কঠোরতা অন‑ডিভাইস সমাধানের চাহিদা বাড়াবে। কোয়াড্রিকের মতো কোম্পানি যারা প্রোগ্রামেবল আইপি সরবরাহ করে, তারা এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে। কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও বেশি ডিভাইস ক্যাটেগরি ও শিল্পে প্রবেশের লক্ষ্য রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, কোয়াড্রিকের অন‑ডিভাইস AI চিপ আইপি ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী ফলাফল দেখাচ্ছে এবং শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বায়ত্তশাসন ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা যায়।



