জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন কার্যক্রম ২৫ জানুয়ারি থেকে পুনরায় চালু হবে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশোধন সেবা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ.এস.এম. হুমায়ুন কবীর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জানিয়েছেন।
ইলেকশন কমিশন ২৪ নভেম্বর ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার পর এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, যাতে তালিকায় ভুল তথ্যের প্রবেশ রোধ করা যায়। তবে জরুরি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সেবা চালু রাখা হয়, যাতে ভোটারদের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এখন থেকে নাগরিকরা সাধারণ সময়সূচি অনুযায়ী এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন, যার মধ্যে নাম, ঠিকানা, পেশা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হবে, ফলে নির্বাচনী রেজিস্ট্রিতে সঠিক তথ্য নিশ্চিত হবে।
এলাকার ভোটার সংখ্যা মোট ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২৩৪ জন। এই পরিসংখ্যান নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদের ওপর ভিত্তি করে। এই তালিকাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করা হবে, ফলে সংশোধন সেবা পুনরায় চালু করা সময়মত ভোটার তথ্য আপডেটের সুযোগ দেবে।
এএসএম হুমায়ুন কবীরের মতে, এনআইডি সংশোধন পুনরায় শুরু করা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, “সংশোধন সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় ভোটারদের তথ্য সঠিকভাবে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের ত্রুটি রোধ করা সম্ভব হবে।”
এই সিদ্ধান্তের ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হবে, কারণ রাজনৈতিক দলগুলো এখন আপডেটেড ভোটার তালিকার ভিত্তিতে তাদের প্রচার পরিকল্পনা সাজাতে পারবে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রার্থীরা ভোটারদের সঠিক তথ্য জানার মাধ্যমে ভোটার সংযোগ ও কৌশল নির্ধারণে সুবিধা পাবে।
বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে সংশোধিত তালিকাকে ভিত্তি করে তাদের প্রার্থী নির্বাচন ও প্রচার কৌশল গঠন শুরু করেছে। ভোটার তালিকায় সঠিক তথ্যের উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলকে ন্যায়সঙ্গত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশন আগামী মাসে ভোটার তালিকার চূড়ান্ত যাচাই ও প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে নির্বাচনের আগে সব তথ্য নিশ্চিত করা যায়। সংশোধন সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় ভোটারদের তথ্য সংশোধনের শেষ তারিখের কাছাকাছি সময়ে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
সারসংক্ষেপে, ২৫ জানুয়ারি থেকে এনআইডি সংশোধন সেবা পুনরায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভোটার তালিকায় সঠিক তথ্যের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা সম্ভব হবে।



