বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) এবং তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রচারণার ছদ্মবেশে কিছু ব্যক্তি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই বিষয়টি সরাসরি কমিশনের নজরে এসেছে এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুসারে অন্যের এনআইডি বহন বা হস্তান্তর করা বেআইনি। আইনটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে যে, এনআইডি কেবলমাত্র তার ধারকেরই ব্যবহারযোগ্য এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে তা প্রদান করা যাবে না।
এছাড়াও, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার ধারা-৪ অনুসারে, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। এই বিধি লঙ্ঘন করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচন কমিশন সকল নাগরিক, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে এই ধরনের অনুপযুক্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সতর্কতা প্রকাশের পাশাপাশি কমিশন উল্লেখ করেছে যে, তারা এই অভিযোগের ওপর তদারকি বাড়াবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চালিয়ে যাবে। তদুপরি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য সকল স্তরে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলো এই বিজ্ঞপ্তির পর তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, তারা আইন মেনে চলবে এবং ভোটারদের তথ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করবে। তবে কিছু দল দাবি করেছে যে, ভোটার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এনআইডি ও ভোটার তথ্যের অবৈধ ব্যবহার রোধে তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তথ্য সংগ্রহের কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই সতর্কতা দেশের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি এই ধরনের অনিয়ম নিয়মিতভাবে ধরা না পড়ে, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটারদের বিশ্বাস ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সকল পক্ষের সহযোগিতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করবে।
পরবর্তী ধাপে, নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনুরোধ করেছে যে, তারা তাদের ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে এনআইডি সংগ্রহের কোনো প্রচেষ্টা না করে, এবং যদি কোনো অনুরোধ বা প্রস্তাব পায় তবে তা অবিলম্বে কমিশনকে জানাবে। এছাড়া, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে।
সংক্ষেপে, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের এনআইডি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অবৈধ সংগ্রহের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং আইন অনুসারে শাস্তি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। সকল নাগরিক ও সংগঠনকে এই ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে এবং স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



