জন হার্ডম্যান, ৫০ বছর বয়সী ফুটবল কোচ, কানাডা দলকে ২০২২ বিশ্বকাপে পৌঁছে দেওয়ার পর ইন্দোনেশিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার নতুন মিশন হল ২০৩০ বিশ্বকাপের যোগ্যতা নিশ্চিত করা, যা দেশের ২৮০ মিলিয়ন মানুষের জন্য বড় স্বপ্ন।
ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনবহুল দেশ, যেখানে ফুটবলের প্রতি উত্সাহ সর্বোচ্চ। তবে ইতিহাসে কোনো বিশ্বকাপের উপস্থিতি না থাকায় এই লক্ষ্যকে অর্জন করা কঠিন কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কানাডা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বকাপের মধ্যে ৩৬ বছরের ফাঁক কাটিয়ে ২০২২ সালে ফিরে এসেছিল। যদি হার্ডম্যানের নেতৃত্বে ইন্দোনেশিয়া ২০৩০ বিশ্বকাপে পৌঁছায়, তবে ৯২ বছরের অপেক্ষা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হার্ডম্যানের প্রথম ম্যাচের স্থান হবে জেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়াম, যেখানে প্রায় ৮০,০০০ জনেরও বেশি লাল রঙের ভক্ত উপস্থিত থাকবে। জাকার্তার আর্দ্র বাতাস, গানের সুর এবং ভিড়ের উল্লাস তাকে নতুন পরিবেশের স্বাদ দেবে।
ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো হল রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, হুলিগ্যানিজম, এবং দুর্নীতি। নুরদিন হালিদের কারাবাসে থাকা অবস্থায়ও তিনি ফেডারেশনের প্রধান ছিলেন, যা ক্রীড়া ব্যবস্থার অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমান ফেডারেশন প্রধান এরিক থোহির ২০১৯ সাল থেকে সরকারী মন্ত্রী পদে আছেন এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে ফেডারেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি পূর্বে এমএলএস ডি.সি. ইউনাইটেড, এনবিএ ফিলাডেলফিয়া ৭৬ার্স এবং সিরি এ ইন্টার মিলানের মালিক ছিলেন। তার নেতৃত্বে ইন্দোনেশিয়ার ফিফা র্যাঙ্ক ১৫১ থেকে ১২২ তে উন্নতি করেছে।
২০২২ বিশ্বকাপের যোগ্যতা সংগ্রামে ইন্দোনেশিয়া আটটি ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে এবং গোল পার্থক্য -২২ ছিল। এই ফলাফল দলকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
যদি হার্ডম্যানের কৌশলগত পরিবর্তন এবং থোহিরের প্রশাসনিক সমর্থন সফল হয়, তবে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন শুধু ক্রীড়া ক্ষেত্রেই নয়, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দলটি আসন্ন এশীয় যোগ্যতা পর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



