27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদেওয়ানগঞ্জে মৃত মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত

দেওয়ানগঞ্জে মৃত মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত

দেওয়ানগঞ্জের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে, মৃত মাদ্রাসা শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র আলোচনা উস্কে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ২৪ জানুয়ারি সরকারি আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল কলেজে অনুষ্ঠিত হবে, এবং তালিকায় নামের উপস্থিতি কীভাবে ঘটেছে তা এখন তদন্তের বিষয়।

মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল করিম, চর মাগুরীহাট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক, ৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর তথ্য মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মো. শফিউল আলম নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুর পরও তার নাম নির্বাচনী প্রশিক্ষণের তালিকায় দেখা যায়।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ২২ জানুয়ারি একটি চিঠি ইস্যু করে নির্বাচনী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা পাঠায়। চিঠির সূত্র নং ১৭,০০,০০০০,০৩৪.৩৬.০১০.২৫-৪৫০-এ তালিকায় ২৮০ নম্বর ক্রমে আব্দুল করিমের নাম উল্লেখ রয়েছে। তালিকাটি মূলত নির্বাচিত কর্মকর্তাদেরকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাতে প্রস্তুত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, তালিকায় নামের অন্তর্ভুক্তি কোনো নতুন নিয়োগের ফল নয়, বরং একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলাফল বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির নাম ভুলবশত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পদে যুক্ত হয়েছে এবং তা দ্রুত তালিকা থেকে মুছে ফেলা হবে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় সমাজে বিস্তৃত আলোচনা এবং সমালোচনা দেখা যায়। কিছু নাগরিক প্রশাসনিক অযত্নের দিকে ইঙ্গিত করে, অন্যরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে বিষয়টি নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রশিক্ষণ তালিকায় মৃত ব্যক্তির নামের উপস্থিতি নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এমন ত্রুটি ভোটারদের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলের স্বীকৃতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সংশোধন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল রোধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তালিকাটি সংশোধন করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। সংশোধিত তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সক্রিয় কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে তালিকা প্রস্তুতির সময় ডেটা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ঘটনা নির্বাচনী প্রস্তুতির সময় প্রশাসনিক ত্রুটির ঝুঁকি তুলে ধরেছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে সকল প্রাসঙ্গিক তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা হলে ভোটারদের আস্থা বজায় থাকবে।

প্রশিক্ষণ সেশনটি ২৪ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, এবং সংশোধিত তালিকায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা যথাযথভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন। উপজেলা নির্বাচন অফিসার উল্লেখ করেন, ত্রুটির সংশোধন দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন ত্রুটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় করতে পারে, তাই ভবিষ্যতে ডেটা ব্যবস্থাপনা ও যাচাইয়ের পদ্ধতি উন্নত করা প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে, মৃত মাদ্রাসা শিক্ষকের নামের অন্তর্ভুক্তি একটি প্রযুক্তিগত ভুলের ফল, যা দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা নির্বাচনী প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার ওপর প্রশ্ন তুলেছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে, এবং সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল স্তরে ত্রুটি রোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments