প্রান‑RFL গ্রুপ এবং ডেনমার্কের Assentoft Aqua আজ ঢাকার প্রান সেন্টারে স্বাক্ষরিত স্মারক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে রিকারসিটেটিং অ্যাকোয়াকালচার (RAS) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি আধুনিক ইনডোর মাছ চাষের কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো, যা দুই বছরের মধ্যে দুই‑তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলো হল প্রান‑RFL গ্রুপের সহায়ক সংস্থা হাবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড এবং Assentoft Aqua। চুক্তি অনুসারে, ফার্মের প্রাথমিক অবস্থান মিরশারাই ইকোনমিক জোন বা উভয় পক্ষের সম্মত অন্য কোনো সাইটে স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে, যাতে প্রথম দুই বছরেই মূল কাঠামো গড়ে তোলা যায়।
প্রস্তাবিত সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ইনডোর এবং উচ্চ ঘনত্বে মাছ চাষের জন্য ডিজাইন করা হবে। RAS প্রযুক্তি জলকে ফিল্টার করে পুনঃব্যবহার করে, ফলে পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে উচ্চ উৎপাদন সম্ভব হয়। এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রধানত এশীয় সিবাস (Asian seabass) চাষ করা হবে, তবে গ্যাপার এবং ইলিশের মতো উচ্চমূল্যের প্রজাতি যুক্ত করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রতিটি মাছের লক্ষ্য ওজন ১,২০০ থেকে ১,৫০০ গ্রাম নির্ধারিত হয়েছে। উৎপাদিত মাছের বেশিরভাগই রপ্তানির জন্য earmarked করা হবে, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটাতে কিছু অংশ স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা হতে পারে। সুবিধাটি সম্পূর্ণ কার্যকর হলে বার্ষিক প্রায় ২,০০০ টন উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
প্রান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এলিশ মৃধা উল্লেখ করেছেন, রিকারসিটেটিং সিস্টেমের পরিচয় বাংলাদেশে শিল্পমুখী সিবাস চাষের নতুন যুগের সূচনা করবে। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি স্থানীয় উৎপাদনকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াবে।
Assentoft Aqua-র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেন্স ওলে ওলসেনও প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে আশাবাদী। তিনি জানান, Marisco ApS, যা Assentoft Aqua-র সহযোগী, ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে আসছে এবং ড্যানিশ সরকার থেকে RAS ভিত্তিক প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এই অভিজ্ঞতা নতুন অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, রিকারসিটেটিং ফার্মের সূচনা দেশের মাছ উৎপাদন শিল্পে প্রযুক্তি-নির্ভর রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ ঘনত্বে উৎপাদন এবং পরিবেশগত প্রভাবের হ্রাসের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমে, যা রপ্তানি মূল্যে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। তাছাড়া, রপ্তানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য, যেখানে সিবাসের চাহিদা ক্রমবর্ধমান।
অন্যদিকে, প্রকল্পের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও রয়েছে। RAS সিস্টেমের উচ্চ প্রাথমিক মূলধন এবং চলমান রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বিনিয়োগের রিটার্নকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা এবং বৈশ্বিক মৎস্য সংক্রান্ত নিয়মাবলী স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, প্রান‑RFL ও Assentoft Aqua-র এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশকে আধুনিক, টেকসই এবং রপ্তানি-কেন্দ্রিক মাছ চাষের পথে অগ্রসর করবে বলে ধারণা করা যায়। সফল বাস্তবায়ন হলে, এটি দেশের কৃষি-খাদ্য শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রাখে। তবে, বিনিয়োগের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের পরিবর্তনের প্রতি সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি, যাতে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি টেকসইভাবে পরিচালিত হতে পারে।



