দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য লুকিয়ে রাখার অভিযোগে দুইজন প্রার্থীকে টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) চিহ্নিত করেছে। এ তথ্যগুলো নির্বাচনী কমিশনের কাছে জমা দেওয়া প্রার্থীর অফিডেভিটের বিশ্লেষণ থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশ্লেষণটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন প্রকাশিত হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, মোট ২১ জন প্রার্থী অফিডেভিটে বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন ও পরবর্তীতে ত্যাগের তথ্য দিয়েছেন, যা তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে। তবে, একই ডকুমেন্টে অন্তত দুইজন প্রার্থী তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব, বিশেষত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব, উল্লেখ করেননি।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রকাশ না করা আইনগত দায়িত্ব লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের অফিডেভিটে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্যসহ ত্যাগের প্রমাণ সংযুক্ত করতে হয়। এই নিয়মের লঙ্ঘন হলে নির্বাচনী কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
টিআইবি এই দুই প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে তাদের নীতি উল্লেখ করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এ ধরনের তথ্য গোপন রাখার ফলে ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়া চালু হতে পারে।
সম্পদ সংক্রান্ত অসঙ্গতিও টিআইবির নজরে এসেছে। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১.৪ কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি বাড়ি, যা একটি প্রার্থীর নির্ভরশীলের নামে নিবন্ধিত, অফিডেভিটে উল্লেখ করা হয়নি। তথ্য অনুসারে, এই সম্পত্তি দুবাইতে নিবন্ধিত শেল কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আরেকজন প্রার্থী তার ব্যক্তিগত বিদেশি সম্পদ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করলেও, তার স্ত্রী দুবাইতে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা রাখে বলে জানা যায়। তদুপরি, আরেকজন প্রার্থী তিনটি বিদেশি ফ্ল্যাটের মালিকানা স্বীকার করেছে, তবে বাস্তবে তার সম্পদ কমপক্ষে নয়টি ফ্ল্যাটে বিস্তৃত, যার মোট মূল্য প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন টাকা অনুমান করা হচ্ছে।
এই বিশ্লেষণ টিআইবির ধানমন্ডি অফিসে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে উপস্থাপিত হয়। সংস্থাটি অফিডেভিটে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের পার্থক্য তুলে ধরে, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেয়।
প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। দ্বৈত নাগরিকত্ব গোপন করা এবং সম্পদ লুকিয়ে রাখা উভয়ই নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়, ফলে প্রার্থীদের ভোটদানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। টিআইবি উল্লেখ করেছে, সংশ্লিষ্ট তথ্য নির্বাচনী কমিশন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সংস্থার কাছে প্রেরণ করা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
টিআইবি ভবিষ্যতেও প্রার্থীর অফিডেভিটের স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং কোনো লঙ্ঘন পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আনবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা ও জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখার লক্ষ্য স্পষ্ট।



