28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ-জাপান শুল্কমুক্ত প্রবেশের জন্য অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ-জাপান শুল্কমুক্ত প্রবেশের জন্য অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ সরকার জাপানের সঙ্গে শুল্কমুক্ত প্রবেশের লক্ষ্য নিয়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশ ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি আলোচনার সূচনা করবে। এই পদক্ষেপের পেছনে জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল এলডিসি গ্রাজুয়েশন পর জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ নিশ্চিত করা। এ ধরনের শুল্কমুক্তি বাংলাদেশকে প্রথম এলডি দেশ হিসেবে জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষরের সুযোগ দেবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।

চুক্তির কাঠামোতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, শুল্ক, বিনিয়োগ, বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যৌথ গবেষণা দল ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৭টি সেক্টরকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন চালানোর সুপারিশ করেছে।

সরকার এই চুক্তি এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং নভেম্বর ২০২৪ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ শুরু করবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেক্টরভিত্তিক ও সমগ্রিক আলোচনার জন্য সাতটি রাউন্ড নেগোসিয়েশন পরিচালিত হবে, যার মাধ্যমে ইপিএ টেক্সট চূড়ান্ত করা হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি সম্পৃক্ততা নেগোসিয়েশনের গতি ত্বরান্বিত করেছে। উভয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে বহু আন্তঃমন্ত্রণালয়ীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শুল্কমুক্ত প্রবেশের শর্তাবলী, পণ্যের মানদণ্ড এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের জাপানি বাজারে প্রবেশের বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত টেক্সটাইল, জুয়েলারি, কৃষি পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার ক্ষেত্রে শুল্কমুক্তি রপ্তানি খরচ হ্রাস করে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য প্রদানকে সম্ভব করবে।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। উৎপাদন, অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সেক্টরে নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা দেশের শিল্প ভিত্তি শক্তিশালী করবে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে শুল্কমুক্ত প্রবেশের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের জাপানি ভোক্তাদের কাছে পরিচিতি বাড়বে, যা রপ্তানি পরিমাণে ধারাবাহিক বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। তবে মুদ্রা পরিবর্তন এবং গ্লোবাল সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে, তাই নীতি নির্ধারকদের সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি দেশের বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করবে, রপ্তানি ভিত্তিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং জাপানি মূলধনের প্রবাহ বাড়াবে। এই ধাপটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments