বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে নিরাপত্তা গড়া বাধা ভেঙে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে সম্পত্তিতে ক্ষতি করে। নিরাপত্তা কর্মীরা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলেও আক্রমণকারীরা দ্রুত ভাঙচুরের কাজ সম্পন্ন করে, ফলে দূতাবাসের বাহ্যিক অংশে গ্লাস ভাঙা ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আক্রমণকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আক্রমণটি পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্কতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়।
দিল্লি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকার ঘটনাটির পর ক্রোয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় লিপ্ত হয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, দূতাবাসে ঘটিত এই ধরণের অপরাধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা কঠোরভাবে নিন্দনীয়।
ভারতীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, ক্রোয়েশিয়ান সরকারকে অপরাধীদের সনাক্ত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
এই ঘটনার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের ভারতীয় দূতাবাসে অনুরূপ আক্রমণ ঘটেছে, যেখানে খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সন্দেহ প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, এই গোষ্ঠীগুলি ভারতীয় কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্যবস্তু করে প্রতিবাদ বা ভাঙচুরের কাজ করে থাকে।
বহু বছর ধরে ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে করা এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, হোস্ট দেশের দায়িত্ব হল দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তবে বাস্তবায়নে প্রায়শই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
ক্রোয়েশিয়া-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঘটনা একটি অপ্রত্যাশিত বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দু’দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়ও বাড়াতে হবে বলে উভয় পক্ষের বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা এখনো আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তদন্তকে ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে, দূতাবাসের নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত গার্ড এবং পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপনের কাজ দ্রুততর করা হবে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোকে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে এবং সম্ভাব্য হুমকি সনাক্তকরণে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, জাগরেবে ভারতীয় দূতাবাসে ঘটিত হামলা কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে এবং ক্রোয়েশিয়া ও ভারত উভয়েরই এই বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং হোস্ট দেশের নিরাপত্তা দায়িত্বের যথাযথ বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।



