ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) আজ একটি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে যে, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বহন বা হস্তান্তর করা এবং নির্বাচনী প্রচারকালে দান বা উপহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এই সতর্কবার্তা ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে, যা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত। কমিশন উল্লেখ করেছে যে, কিছু ব্যক্তি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও এনআইডি সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ইসিসি স্পষ্ট করে বলেছে যে, কোনো ব্যক্তির এনআইডি অন্যের হাতে নেওয়া, সংরক্ষণ করা বা হস্তান্তর করা অনুমোদিত নয়। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাস্তির মুখে পড়বে।
প্রেস রিলিজে ইসিসির পাবলিক রিলেশনস ডিরেক্টর রুহুল আমিন মোল্লিক স্বাক্ষর করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এনআইডি সংক্রান্ত এই নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
এছাড়া, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি অনুসারে, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী এলাকার মধ্যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে দান, সাবস্ক্রিপশন বা উপহারের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। এই বিধান ভোটারদের প্রভাবিত করার কোনো অবৈধ উপায়কে বাধা দেয়।
কমিশন সকল নাগরিক ও সংগঠনকে এই ধরনের অনুশীলন থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনি শাস্তি আরোপিত হবে।
প্রেস রিলিজে উল্লেখিত নিয়মগুলো নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের স্বেচ্ছা সিদ্ধান্তকে রক্ষা করতে লক্ষ্যভিত্তিক। এনআইডি সংগ্রহের মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য অপব্যবহার করা হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি করে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন না হয়। যদিও এখনো কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বিরোধিতা প্রকাশিত হয়নি, তবে ইসিসি ভবিষ্যতে কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
নির্বাচনী সময়ে দান বা উপহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তা ভোটারদের উপর অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই ইসিসি এই ধরনের কার্যকলাপকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যাতে সকল প্রার্থী সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
এছাড়া, এনআইডি সংক্রান্ত তথ্যের অননুমোদিত সংগ্রহ ও হস্তান্তর নির্বাচন কমিশনের তথ্য নিরাপত্তা নীতি লঙ্ঘন করে। এই নীতি ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইসিসি ভবিষ্যতে এই নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বাড়াবে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সামগ্রিকভাবে, ইলেকশন কমিশনের এই সতর্কতা ভোটারদের অধিকার রক্ষা, তথ্যের সুরক্ষা এবং নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নৈতিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। সকল অংশগ্রহণকারীকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে এবং কোনো লঙ্ঘন না করার জন্য সচেতন থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



