22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেটের প্রথম নির্বাচনী জনসভা

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেটের প্রথম নির্বাচনী জনসভা

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা তার বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এই সভা বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সূচনা হিসেবে পরিকল্পিত এবং সিলেটের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সমর্থকরা একত্রিত হন। মাঠে উঁচু মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্য শুরু করেন, যেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এবং তিনি এই সভায় নিজের নেতৃত্বের স্বরূপ তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি নিজের পরিচয় স্পষ্ট করে বলেন, “আমি বিএনপি চেয়ারম্যান, এবং আজকের এই জনসভা আমাদের নির্বাচনী প্রচারের প্রথম ধাপ।” তিনি এভাবে নিজের রাজনৈতিক দায়িত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেন।

বক্তৃতার শুরুর দিকে তিনি একাধিক রেটোরিক্যাল প্রশ্ন উত্থাপন করেন; “কাবা শরিফের মালিক কে? এই পৃথিবীর মালিক কে? সূর্য‑নক্ষত্রের মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে?” এসব প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক বিষয়কে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত সমাবেশের সদস্যরা সমস্বরে “আল্লাহ” বলে উত্তর দেন। তারেক রহমান এই সমবায় প্রতিক্রিয়াকে উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা সবাই একসাথে স্বীকার করেছেন, সবকিছুর প্রকৃত মালিক আল্লাহ।” তিনি এই ধর্মীয় ঐক্যকে রাজনৈতিক সততার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন।

এরপর তিনি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ভোটারদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। “নির্বাচনের আগে কিছু দল টিকিট দেবার কথা বলে, কিন্তু টিকিটের মালিক মানুষ নয়, তা আল্লাহরই অধিকার,” তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি এই যুক্তি দিয়ে ভোটারদের সতর্ক করেন যে, কোনো দল বা ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষমতা দিয়ে ভোটারকে প্রভাবিত করতে পারে না।

তারেক রহমান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “যদি কেউ বলে যে তিনি টিকিট দেবেন, তবে তা শিরক করা হচ্ছে, কারণ আল্লাহই একমাত্র অধিকারী।” তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পেছনের বাস্তবতা ও নৈতিক দিক তুলে ধরতে চেয়েছেন।

বক্তৃতার মাঝামাঝি তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। “১৯৭১ সালে যে যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে, তা লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে,” তিনি বলেন। এই ঐতিহাসিক উল্লেখের মাধ্যমে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও ত্যাগের মূল্যকে পুনরায় জোর দেন।

এরপর তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের ত্যাগকে স্মরণ করে বলেন, “এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা‑বোনের সম্মানহানি হয়েছে, এবং তাদের ত্যাগের ফলে আমরা আজ স্বাধীন।” তিনি এভাবে দেশের ইতিহাসকে বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে, ভোটারদের মধ্যে জাতীয় গর্ব ও দায়িত্ববোধ জাগাতে চেয়েছেন।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো তৎক্ষণাৎ মন্তব্য রেকর্ড করা যায়নি। তবে অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়।

বিশ্লেষকরা এই জনসভাকে বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোটারভিত্তি এলাকায় এমন রেটোরিক্যাল ও ঐতিহাসিক উল্লেখ ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য দলগুলোর প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী প্রচার কেমন হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিলেটের এই প্রথম নির্বাচনী জনসভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিএনপি তার পরবর্তী র‍্যালি ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রকাশের সম্ভাবনা বাড়ছে। ভোটারদের কাছে তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছাতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দলটি কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করবে, তা দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments