সাউথহ্যাম্পটন এফসি‑এর মিডফিল্ডার লেও স্কিয়েন্সা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপকে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ কঠিন লিগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি এই মন্তব্যটি ক্লাবের প্রশিক্ষণ শিবিরে দলের সঙ্গে কথা বলার সময় করেন, যেখানে লিগের তীব্রতা ও শারীরিক চাহিদা নিয়ে আলোচনা হয়।
স্কিয়েন্সার জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা ঘটে যখন তিনি ২০ বছর বয়সে তার পিতার মৃত্যু শোকের মুখে পড়েন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি দু’মাসেরও বেশি সময় নিজের ঘরে আটকে থাকেন, জীবনের কোনো মানে না পাওয়ার মতো অবস্থা বর্ণনা করেন। এই সময়ে তিনি মানসিকভাবে গভীর দুঃখে নিমজ্জিত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।
ব্রাজিলের বড় ক্লাবগুলো থেকে প্রত্যাখ্যানের পর স্কিয়েন্সা প্রায় £২০‑৪০ পার গেমের পারিশ্রমিকে স্থানীয় দলগুলোর জন্য খেলতে বাধ্য হন। তার স্বপ্ন ছিল বড় মঞ্চে নামা, তবে আর্থিক ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা তাকে তুচ্ছ পারিশ্রমিকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করে।
কিছু মাস পর, কিছু অনৈতিক এজেন্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্কিয়েন্সা সুইডেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজেন্টরা তাকে সুইডিশ শীর্ষ বিভাগ অলসভেনসকানের সঙ্গে চুক্তি করার কথা বলেছিলেন, তবে বাস্তবে তিনি স্টকহোমের উত্তরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পঞ্চম স্তরের ফানা ক্লাবে যোগ দেন। এই ক্লাবটি তার ক্যারিয়ারের জন্য প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচু স্তরে ছিল।
সুইডেনে তার সময়টি কঠিনতায় পরিপূর্ণ ছিল। বেতন নিয়ে ধারাবাহিক সমস্যার মুখোমুখি হন এবং বাসস্থানের পরিস্থিতি তার প্রত্যাশার থেকে অনেক দূরে ছিল। স্কিয়েন্সা বলেন, স্বপ্নের বদলে তিনি এক ধরনের দুঃস্বপ্নের সঙ্গে মোকাবিলা করছিলেন, যেখানে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর্থিক সংগ্রাম ও অস্থির জীবনের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।
কয়েক বছর পর, স্কিয়েন্সা জার্মানির বুন্দেসলিগা হেইডেনহাইমে ফিরে আসেন এবং সেখানে তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজর কাড়েন। গ্রীষ্মকালে সাউথহ্যাম্পটন এফসি তাকে প্রায় £৮ মিলিয়ন মূল্যে অধিগ্রহণ করে, যা তার ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। এই স্থানান্তরটি তাকে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তরে নিয়ে আসে এবং নতুন চ্যালেঞ্জের দরজা খুলে দেয়।
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের কঠোরতা নিয়ে স্কিয়েন্সা বলেন, এই লিগটি “রক্তাক্ত যুদ্ধের মতো” এবং “বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন লিগ” হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে শারীরিক শক্তি, ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা এবং মানসিক দৃঢ়তা সবই সমানভাবে প্রয়োজন, যা তাকে অতীতের কঠিন সময়কে অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে।
পিতার মৃত্যুর শোক, স্বপ্নের ভাঙন, সুইডেনে কঠিন জীবনযাপন এবং শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে পৌঁছানো—এই সব অভিজ্ঞতা স্কিয়েন্সার জীবনের এক অনন্য যাত্রা গঠন করে। এখন তিনি সাউথহ্যাম্পটনের হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে তার অতীতের কষ্ট তাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে।



