সরকার আজ ৪১৯টি উপজেলাকে লক্ষ্য করে অতিরিক্ত ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) প্রকল্পের আওতায় চালের বিক্রয় শুরু করেছে। চালের দাম প্রতি কিলোগ্রাম টাকার ৩০-এ নির্ধারিত, যা মূলত বাজারে দামের ওঠানামা কমিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
এই অতিরিক্ত ওএমএসের অধীনে প্রতিটি নির্ধারিত উপজেলায় প্রতিদিন এক টন চাল বিক্রি হবে এবং বিক্রয় ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকার এই ব্যবস্থা সাধারণ ওএমএসের সঙ্গে সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাবে, যেখানে সাধারণ ওএমএসের কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।
অতিরিক্ত ওএমএস চালু করার মূল কারণ হল কিছু অঞ্চলে সূক্ষ্ম চালের দামে অনিয়মিত বৃদ্ধি দেখা দেওয়া। যদিও দেশের মোট খাদ্য মজুদ যথেষ্ট, তবুও বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে নির্দিষ্ট এলাকায় দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে, যা সরকার “অপ্রিয়” বলে উল্লেখ করেছে।
সাধারণ ওএমএসের আওতায় বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৫২টি জেলা সদর পৌরসভা, ১৫টি শ্রমিক-নিবিড় উপজেলা এবং পাঁচটি শ্রমিক-নিবিড় পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দৈনিক মোট ১১,৪১৭.৫ টন ময়দা এবং ১,১৭৫ টন চাল বিক্রি হয়। ময়দার দাম আলাদা—ঢিলা ময়দা প্রতি কিলোগ্রাম টাকার ২৪, আর দুই কিলোগ্রাম প্যাকেটের দাম টাকার ৫৫ নির্ধারিত। চালের দাম পূর্বে উল্লেখিত টাকার ৩০ প্রতি কিলোগ্রাম।
সরকারি নির্দেশে বাজার পর্যবেক্ষণকে তীব্র করা হয়েছে এবং অনিয়মিত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দামের অতিরিক্ত ওঠানামা রোধে সহায়ক হবে।
ভোক্তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগের তাৎপর্য স্পষ্ট। সূক্ষ্ম চালের দামের হঠাৎ বৃদ্ধি কমে গেলে গৃহস্থালির ব্যয় হ্রাস পাবে এবং নিম্ন-আয়ের পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে, চালের সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হওয়ায় বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
সরবরাহ শৃঙ্খলে ইতিবাচক প্রভাবও প্রত্যাশিত। চালের বিক্রয় বাড়ার ফলে আটা মিল ও গমের কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়বে, যা লজিস্টিক চেইনের গতি ত্বরান্বিত করবে এবং স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে।
তবে, এই সস্তা চালের বিক্রয় সরকারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয় বহন করতে বাধ্য করবে। টাকার ৩০ প্রতি কিলোগ্রাম দামের পার্থক্য ও বড় পরিমাণে চালের সরবরাহের ফলে বাজেটের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা পরবর্তী আর্থিক পরিকল্পনায় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাজারে দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ওএমএসের কার্যকারিতা নির্ভর করবে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও আইনি পদক্ষেপের কঠোরতার ওপর। যদি দামের ঊর্ধ্বগতি পুনরায় তীব্র হয়, তবে সরকারকে আরও সমন্বিত হস্তক্ষেপের কথা ভাবতে হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে, মৌসুমী ফসলের উৎপাদন, বৃষ্টিপাতের অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক চালের মূল্য পরিবর্তনও দেশের চালের বাজারকে প্রভাবিত করবে। এসব বাহ্যিক উপাদানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে নীতি সমন্বয় করা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ৪১৯ উপজেলায় চালের অতিরিক্ত ওএমএস চালু করা ভোক্তাদের জন্য সরাসরি মূল্যসুবিধা এনে দেবে, বাজারে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং দামের অস্থিরতা কমাবে। তবে, আর্থিক ব্যয় ও সম্ভাব্য বাজার ঝুঁকি মোকাবিলায় ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও সময়োপযোগী নীতি সমন্বয় অপরিহার্য।



