ঢাকা শহরের বহতারা, কুরিল মিরধাবারী এলাকায় গতকাল একটি শোকজনক অপরাধের সূত্র উন্মোচিত হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী আরিফা নামের কন্যা সন্তানকে তার শাশুড়ি খাদিজা আক্তার গলা চেপে হত্যা করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। দেহটি বাড়ির পানির ট্যাঙ্কে লুকিয়ে পাওয়া যায় এবং ঘটনাটি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ উমাউল হক কর্তৃক জানানো হয়েছে।
আরিফা তার বাবা-মা মি. রাজিব এবং শারমিনের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তার বড় ভাই হাসান ও তার স্ত্রী খাদিজা একই বাড়ির আলাদা কক্ষ থেকে বাস করছিলেন। পরিবারটি আর্থিকভাবে সীমিত অবস্থায় ছিল; আরিফার বাবা মি. রাজিব দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অভিযুক্ত খাদিজা আক্তার আরিফার শাশুড়ি, যিনি পরিবারের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকতেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আরিফা প্রায়ই বড় ভাইকে খাবার বা ছোটখাটো জিনিসের জন্য অনুরোধ করত, যা হাসান প্রায়ই পূরণ করতেন। এক মঙ্গলবার হাসান তার বোনের জন্য কিছু খেলনা কিনে এনে দিলেন, যা পরে দম্পতির মধ্যে তর্কের সূত্রপাত করে।
তর্কের পরিণতিতে খাদিজা আরিফাকে নিজের শোবার ঘরে নিয়ে গিয়ে গলা চেপে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার পর দেহটি বাড়ির পানির ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন। আরিফা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর পরিবারটি তাকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গা অনুসন্ধান করে, কিন্তু কোনো ফল না পেয়ে শেষমেশ ট্যাঙ্কে দেহটি আবিষ্কার করে।
দেহের সন্ধান পাওয়ার পর পরিবারটি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল করে ঘটনাটি জানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। উমাউল হক জানান, খাদিজা আক্তার গৃহে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়ে স্বীকার করেছেন যে তিনি শিশুটিকে গলা চেপে হত্যা করেছেন এবং দেহটি ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রেখেছেন।
গৃহে জোরালো অনুসন্ধানের পর, পানির ট্যাঙ্ক থেকে আরিফার দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি সনাক্তকরণে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি এবং মৃতদেহের অবস্থা অনুসারে গলা চেপে মারা যাওয়া নিশ্চিত হয়েছে।
অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের পর, পুলিশ খাদিজা আক্তারকে গ্রেফতার করে গৃহস্থালির অপরাধের অভিযোগে আদালতে পাঠায়। উমাউল হক উল্লেখ করেন, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মি. রাজিব, আরিফার বাবা, স্থানীয় শ্রমিক হিসেবে দৈনন্দিন কাজ করে পরিবারের খরচ চালান। তার সন্তানকে হারানোর শোকের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আইনগত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আছেন।
পুলিশের মতে, এই ধরনের পারিবারিক হিংসা অপরাধের তদন্তে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংস্থাগুলি পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান এবং অপরাধের শিকারদের পুনর্বাসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ঘটনাটির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, মিডিয়া ও সাধারণ জনগণকে যথাযথ সম্মান ও শোকের পরিবেশ বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



