দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের কোনো প্রচেষ্টা নিষিদ্ধ করে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থীর পক্ষ থেকে বা তার সমর্থকরা যদি ভোটারদের এনআইডি নিতে চায়, তা ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈধ প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ভোটারদের এনআইডি হস্তান্তর করা বা গ্রহণ করা জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০‑এর লঙ্ঘন, যা অন্যের এনআইডি বহন বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করে। এই বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি নির্ধারিত, এবং নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো প্রকারের চাঁদা, অনুদান, উপহার বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া-নেওয়া, যা ভোটার তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য রাখে, তা ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’‑এর ধারা‑৪ অনুযায়ী অপরাধ।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারের আড়ালে কিছু ব্যক্তি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং এনআইডি সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে। এই ধরনের কার্যক্রমের বিরোধিতা করে সকল নাগরিক ও সংগঠনকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা কোনোভাবে এনআইডি সংগ্রহে যুক্ত না হয়।
ঢাকা-১৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভিযোগে জানা যায়, জামায়াতের নারী কর্মীরা মিরপুর এলাকায় প্রচারের নামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি নিতে চেয়েছেন। এই অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণের নির্দেশ জারি করেছে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এনআইডি হস্তান্তর করা বা গ্রহণ করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ এবং তা ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করা, অথবা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া যা ভোটারকে প্রভাবিত করতে পারে, তা একই বিধি অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
প্রচারের প্রথম দিন, বৃহস্পতিবার, কমিশন ‘নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনের আহ্বান’ শীর্ষক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার উদ্দেশ্য, যাতে কোনো প্রকারের তথ্যচুরি বা অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করা না যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং ভোটারদের জন্য গণভোটের দিন নির্ধারিত। প্রচার কার্যক্রম ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই সময়কালে নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর কাছ থেকে অনুরোধ করেছে, যেন তারা নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলে এবং ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহের মতো অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত না হয়।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিএনপি প্রার্থী উল্লেখ করেছেন যে জামায়াতের কর্মীরা মিরপুরে এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রতিনিধিরা এই অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেছেন যে তাদের কোনো সংগঠন ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহে যুক্ত নয় এবং তারা নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলবে।
নির্বাচন কমিশনের এই সতর্কতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এনআইডি সংগ্রহের মতো অনৈতিক প্রচার পদ্ধতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুন্ন করতে পারে। তাই, কমিশনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট।
ভবিষ্যতে, যদি কোনো প্রার্থী বা দল এই বিধি লঙ্ঘন করে, তবে নির্বাচন কমিশন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে হবে এবং ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহের মতো অবৈধ কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে সুষ্ঠু রাখার লক্ষ্যে গৃহীত। ভোটারদেরও এই নির্দেশনা মেনে চলা এবং কোনো অনিয়মের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



