রাজধানীর মিন্টো রোডে সচিবদের ফ্ল্যাটের সুবিধা এমন যে, তা বিলাসবহুল হোটেলকে পরাস্ত করতে পারে—এ কথা আজ বৃহস্পতিবার তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক শাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে উঠে আসে। সংলাপটি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজন করেছে এবং দেশের বিভিন্ন নীতি বিশারদকে একত্রিত করেছে।
সংলাপের প্রধান বক্তা হোসেন জিল্লুর রহমান, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান, বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাটের মান ও সুবিধা হোটেল শিল্পের শীর্ষ মানের কাছাকাছি, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন তুলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহি না থাকলে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
জিল্লুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, বেতন বৃদ্ধির যুক্তি কী—এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের ব্যয়ের কার্যকারিতা ও ফলাফল সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ হিসাব‑নিকাশের প্রয়োজন।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারি অপচয়মূলক প্রকল্প ও পরিচালন ব্যয়ের ওপর যথাযথ আলোচনা ও তদারকি করা হয় না। এসব ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি না থাকলে, দেশের আর্থিক সম্পদ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তিনি এই বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা দাবি করেন।
সংলাপে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এর নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ‑উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল উপস্থিত ছিলেন।
জিল্লুর রহমানের মতে, আসন্ন নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার সর্বোত্তম নির্বাচনের কথা বললেও, বাস্তবে তা ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনের ঝুঁকি বহন করতে পারে। এই মন্তব্যটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলিলী, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডারের সভাপতি আবদুল হক, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান সরদার এ নাঈম এবং ব্যবসায়ী নেতা শাহদাত হোসেন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই দেশের অর্থনৈতিক শাসন ও দুর্নীতি মোকাবিলার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন।
সেশনটি সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী পরিচালনা করেন। তিনি সংলাপের সময় অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে সমন্বিত করে প্রশ্নোত্তর সেশনকে সমৃদ্ধ করেন।
সংলাপের সমাপ্তিতে হোসেন জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বেশ কয়েকটি গুরুতর অদক্ষতা বিদ্যমান, যা উন্নয়নমূলক নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অদক্ষতাগুলো দূর না করা পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্থবির থাকবে।



