চট্টগ্রাম-৯ নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও গ্রেটার সানি অ্যালায়েন্সের সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদের গাড়িতে অজানা ব্যক্তিরা ইট নিক্ষেপ করে আক্রমণ চালায়। ঘটনাটি দুপুর ১২:৩০ টার দিকে কোটওয়ালি থানা অধীনে দিদার মার্কেটের উপশহরে ঘটেছে। গাড়ির সামনের উইন্ডশিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো শারীরিক আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
মুরাদ জানান, তিনি আল-ইহসান ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কাজি মাইনুদ্দিন আশরাফীর বাড়িতে আশীর্বাদ নিতে গিয়ে গাড়ি চালিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পথে ছিলেন। পথে অজানা কিছু ব্যক্তি গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে আঘাত করে। “আমি গাড়ির সামনের সিটে বসে ছিলাম, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আমি গাড়ি থেকে নামি না,” তিনি বলেন।
আক্রমণের পর মুরাদ সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে কোটওয়ালি থানা অফিসার-ইন-চার্জ আফতাব উদ্দিনকে অবহিত করেন। আফতাব উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাটি জানে এবং তদন্ত চলছে। তিনি কোনো সন্দেহভাজন বা ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্তব্য করেননি, তবে তদন্তের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে বলে জানান।
মুরাদের মতে, তার নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই আক্রমণের পেছনে থাকতে পারে। “আমি এই নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং এখানে পরিচিত ইসলামিক পণ্ডিত,” তিনি যোগ করেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি ও প্রভাবকে তুলে ধরে।
প্রতিবাদী দল ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ঘটনাটিকে নির্বাচনী উত্তেজনার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার ফলে নির্বাচনী পরিবেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়তে পারে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটির তদন্তে অগ্রসর হওয়ায়, ভবিষ্যতে প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হিংসা-মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর কোটওয়ালি থানা থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় অনুরূপ ঘটনা পুনরায় না ঘটে। প্রার্থীর দলও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম-৯-এ গাড়ি আক্রমণটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে ঘটায়, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



