আজ বিকাল সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি প্রথম নির্বাচনী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দলীয় চেয়ারম্যান তারিক রাহমান উপস্থিত হয়ে সমাবেশকে উদ্বোধন করেন। তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রক্ষা করার জন্য বহু প্রাণের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে ভাষণ দেন।
রাহমানের ভাষণে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো পোস্টাল ভোটের কার্ড চুরি হওয়ার ঘটনা সংবাদপত্র ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এ ধরনের ভোটের জালিয়াতি পূর্বে দেশের বাইরে থাকা কিছু গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে বলে সতর্ক করেন।
বিএনপি নেতা বলেন, ঐ গোষ্ঠী এখনো সক্রিয় এবং দেশের ভিতরে-বাইরে সমন্বিতভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইলিয়াস আলী, দিদার ও জুনাইদের মতো রাজনৈতিক শহীদদের ত্যাগকে স্মরণ করে, তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের গণ আন্দোলনে সিলেট শহরে মাত্রই তেরজনের মৃত্যু ঘটেছে। রাহমানের মতে, এই প্রাণহানি দেশের স্বাধিকার অর্জনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু স্বার্থপর গোষ্ঠী এই পথকে বাধা দিতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে।
বিএনপি নেতা জোর দিয়ে বলেন, এই গোষ্ঠীর পরিকল্পনা দেশের অভ্যন্তরে অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের লক্ষ্য গণতন্ত্রের অগ্রগতি থামিয়ে রাখা। তিনি সমাবেশকে সতর্ক করে বলেন, বিদেশে বসে থেকেও তারা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে।
রাহমান ৫ই আগস্ট ২০২৪-এ দেশের ঐক্যের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ঐ দিন জনগণ একসঙ্গে হয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করতে পারে। তিনি উপস্থিতদেরকে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি ঐ ঐক্য বজায় রাখতে সক্ষম হবেন?”
একটি মুহূর্তে রাহমান একজন নেতা ও কর্মীকে মঞ্চে আহ্বান করেন এবং ধর্মীয় প্রশ্ন করেন: কাবার মালিক কে? এই জগতের মালিক কে? স্বর্গ ও নরকের মালিক কে? সূর্য ও নক্ষত্রের মালিক কে? উক্ত ব্যক্তি সব প্রশ্নের উত্তর “আল্লাহ” দিয়ে দেন।
এরপর রাহমান ব্যাখ্যা করেন, যদি আল্লাহই একমাত্র মালিক হন, তবে অন্য কেউ কোনো জিনিসের মালিকানা দিতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে কিছু দল টিকিট বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা তিনি ‘শির্ক’ হিসেবে বিবেচনা করেন এবং ভোটারকে ধোঁকা দেওয়ার কাজ বলে সমালোচনা করেন।
বিএনপি র্যালির পরে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ ও সরকারী সূত্রে এখনও এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, রাহমানের এই সতর্কতা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো ভোটের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিএনপি র্যালি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কর্মীরা সমাবেশকে সমাপ্তি জানান এবং ভোটারদেরকে গণতন্ত্রের সুরক্ষায় একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই ধরনের সতর্কতা ও দাবি কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



