রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর ওপর সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে সংস্থার শীর্ষে এক চেয়ারম্যান এবং সাতজন সদস্যের বোর্ড গঠন হবে। এই আইন ১৯ জানুয়ারি সোমবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে গৃহীত হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, পূর্বে পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত বোর্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে সাতজন সদস্য করা হয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বিস্তৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এই সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করবে এবং সংস্থার নীতি নির্ধারণে অংশ নেবে।
এ পর্যন্ত রাজউকের বোর্ডে পাঁচজন সদস্যের বিধান ছিল, যা সরকার নতুন অধ্যাদেশে পরিবর্তন করে সাতজন সদস্যের কাঠামো গ্রহণ করেছে। এই পরিবর্তনটি সংস্থার কার্যকরী ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত আন্তঃকর্তৃপক্ষ বদলি এবং ২৫ বছর পূর্ণ হলে বাধ্যতামূলক অবসরের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পূর্বে ৫৯ বছর বয়সে অবসর নেওয়া হতো, এখন কর্মজীবনের স্বল্পতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২৫ বছর পর অবসর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশটি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে এবং এতে রাজউকের কার্যক্ষেত্রের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও সাভার উপজেলা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার নির্দিষ্ট এলাকা, পাশাপাশি সরকারী প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত অন্যান্য অঞ্চলগুলোকে এই আইন প্রযোজ্য বলে ঘোষিত করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশের অধীনে রাজউককে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার নিজস্ব নামে মামলা দায়ের করার এবং তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের আইনি ক্ষমতা থাকবে। এই আইনি স্বীকৃতি সংস্থার স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বাধ্যতামূলক অবসর বিধানটি ২৫ বছর পূর্ণ করা সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য, যা পূর্বের ৫৯ বছর বয়সের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এই পদক্ষেপটি কর্মচারীদের কর্মজীবনের গতি দ্রুততর করার পাশাপাশি নতুন দক্ষতা ও তাজা দৃষ্টিভঙ্গি সংস্থায় আনতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়নের দায়িত্বও স্পষ্ট করা হয়েছে। রাজউক তার আওতাভুক্ত এলাকায় কৌশলগত পরিকল্পনা এবং এলাকাভিত্তিক বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা তৈরি করে নগর উন্নয়নের কাঠামো নির্ধারণ করবে।
ভূমি ক্রয়, ইজারা, বিনিময় বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। সংস্থা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত যে কোনো ব্যক্তিগত বা স্বত্বাধিকারী ভূমি ও সংশ্লিষ্ট স্বার্থ অর্জন করতে পারবে, তবে তা বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসারে হবে।
এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও শ্রমিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে ২৫ বছরের বাধ্যতামূলক অবসর কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা হারানোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার এই পদক্ষেপকে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে যুক্তি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে নতুন বোর্ড গঠন এবং দ্রুত অবসর নীতি রাজউকের ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে অভিজ্ঞ কর্মী পরিবর্তনের ফলে স্বল্পমেয়াদে কিছু সমন্বয় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এই বিষয়গুলো পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই অধ্যাদেশের ভিত্তিতে রাজউক নতুন বোর্ড গঠন করবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে, সংস্থা তার পরিকল্পনা ও ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে বাস্তবায়ন পর্যায়ে অগ্রসর হবে।



