28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুমোদন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুমোদন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন দিগন্ত

আজ দেশের পরামর্শক পরিষদে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত। পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চুক্তি শীঘ্রই কার্যকর হবে।

পরিষদের সভা আজই অনুষ্ঠিত হয় এবং সকল সদস্যের সমর্থন পেয়ে EPA‑র রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল দু’দেশের পণ্য ও সেবার প্রবেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দৃঢ় করবে।

EPA‑র অধীনে বাংলাদেশ‑এর রপ্তানি পণ্যের জন্য জাপানি বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে, তবে তা শুধুমাত্র পোস্ট‑LDC (সর্বনিম্ন উন্নত দেশ) পর্যায়ে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, দেশটি LDC শ্রেণি থেকে বেরিয়ে আসার পরই এই সুবিধা পূর্ণভাবে প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ নভেম্বর মাসে LDC শ্রেণি থেকে স্নাতক হবে বলে সরকারী পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই পরিবর্তন চুক্তির শর্তাবলীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে রপ্তানি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগকে ত্বরান্বিত করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, EPA কার্যকর হলে বাংলাদেশ ৭,৩৭৯টি পণ্যের জন্য জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে জাপান ১,০৩৯টি পণ্যের জন্য বাংলাদেশী বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ পাবে। এই সংখ্যা দু’দেশের বাণিজ্যিক কাঠামোকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম।

চুক্তির আওতায় বিশেষত টেক্সটাইল, জুতাপাতা, চা, ইলিশ ও অন্যান্য কৃষি পণ্যের রপ্তানি জাপানি ভোক্তাদের কাছে সহজলভ্য হবে। শুল্কমুক্তি এই পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে এবং বাজার শেয়ার বিস্তারে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে, জাপান থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও উচ্চ মানের শিল্প পণ্যের প্রবেশ সহজ হবে। শুল্কমুক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি কমাবে এবং উৎপাদন খাতে আধুনিকীকরণে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে শুল্কমুক্ত পণ্যের মানদণ্ড পূরণে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক গুণগত মান অনুসরণ করতে হবে। বিশেষত পণ্যের নিরাপত্তা, পরিবেশগত মান ও প্যাকেজিং সংক্রান্ত চাহিদা পূরণ না হলে সুবিধা সীমিত থাকতে পারে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, EPA কার্যকর হলে দু’দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণে ২০‑২৫ শতাংশ বৃদ্ধি সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং জিডিপির অবদানও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

অবশ্যই, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রা বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং জাপানের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের মতো ঝুঁকি চুক্তির সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতি সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, পরামর্শক পরিষদের অনুমোদিত EPA বাংলাদেশ ও জাপানের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাবে। শুল্কমুক্ত পণ্যের বিস্তৃত তালিকা রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্প আধুনিকীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করবে, তবে মানদণ্ড মেনে চলা ও বহিরাগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments