চট্টগ্রাম রॉयালসের অধিনায়ক ও বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দলের সদস্য শেখ মেহেদি হাসান, বিপিএল ফাইনালের পরই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকটি মিরপুরের শের‑ই‑বাংলা স্টেডিয়ামের পাশে অবস্থিত টিম হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিকাল ৩টায় বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রত্যাশা রয়েছে।
বিপিএল ফাইনাল শুক্রবার চট্টগ্রাম রॉयালসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে দলটি ফাইনালের পরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। মেহেদি বললেন, অনুশীলনের সময়সূচি এক ঘণ্টা নির্ধারিত ছিল, তবে বাস্তবে তা বেশি সময় ধরে চলেছে। ফাইনালের পরের দিনই তিনি ও তার সহকর্মীরা ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যা দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিসিবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর সঙ্গে গত ৪ জানুয়ারি যোগাযোগ করে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের চূড়ান্ত তালিকা জানাতে চেয়েছিল। তবে আইসিসি সভায় বিসিবি ১৪-২ ভোটে পরাজিত হওয়ায়, সিদ্ধান্তের জন্য এক দিন সময় বাড়িয়ে চেয়েছে। এই অনুরোধের পর থেকে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। বুধবারের আইসিসি বোর্ড সভায় আবারও বিসিবি হারে, ফলে সরকারী অনুমোদনসহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন দেখা দেয়।
বৈঠকের ঠিক এক ঘণ্টা আগে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মেহেদি জানান, তিনি ও দলের অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানেন না। “এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য কী গোপনীয়তা আছে, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি,” তিনি বলেন। এই অজানা বিষয়গুলোই আজকের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্বকাপের জন্য নিজের ইচ্ছা প্রকাশে মেহেদি সতর্ক সুরে মন্তব্য করেন। “একজন ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক। তবে শেষ সিদ্ধান্ত পুরো বোর্ডের, সরকারের এবং আমাদের অভিভাবকদের হাতে। তাদের নির্দেশনা মেনে চলা আমাদের দায়িত্ব,” তিনি উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, খেলোয়াড়দের পছন্দের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিকের প্রভাবও রয়েছে।
বিসিবি এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করছে। আইসিসি থেকে এক দিনের সময় বাড়িয়ে চাওয়ার পর, বিসিবি এখনো সরকারী অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারী দিক থেকে অনুমোদন পেলে, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে স্কোয়াডের সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণের কাজ শেষ হবে।
বিপিএল ফাইনালের পর চট্টগ্রাম রয়ালসের অনুশীলন ও সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, খেলোয়াড়দের হোটেলে ফিরে দ্রুত ভ্রমণ করতে হয় অন্য হোটেলে, যেখানে বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এই দ্রুত চলাচল ও সময়সূচি দেখায় যে, দলটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতিতে কোনো দেরি করতে চায় না।
বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে চলমান আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, ক্রিকেট অনুরাগীরা এখনো স্কোয়াডের গঠন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে মেহেদি ও অন্যান্য খেলোয়াড়ের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে চায়, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন।
বিপিএল ফাইনাল এবং বিশ্বকাপ স্কোয়াডের চূড়ান্ত ঘোষণার মধ্যে এই সংযোগটি দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি শেষ হলে, বিসিবি সম্ভবত আইসিসি ও সরকারের অনুমোদনসহ স্কোয়াডের তালিকা প্রকাশ করবে, যা দেশের ক্রিকেট উত্সাহীদের জন্য নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



