18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রামের মিদ্যাপাড়ায় অটোরিকশা চালককে লাঠি মারধর করে হত্যা

চট্টগ্রামের মিদ্যাপাড়ায় অটোরিকশা চালককে লাঠি মারধর করে হত্যা

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতের দিকে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা অধীনে জুট মিল এলাকার মিদ্যাপাড়ায় একটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক খোরশেদ আলমকে তিনজন আক্রমণকারী লাঠি ও শারীরিক হিংসা ব্যবহার করে হত্যা করা হয়।

খোরশেদ আলম, স্থানীয়ভাবে পরিচিত অটোরিকশা চালক, তার গৃহস্থালী জীবনের পাশাপাশি শহরের ভিড়পূর্ণ রাস্তায় যাত্রী পরিবহন করতেন। ঘটনাস্থলে তিনি গুরুতর আঘাতে পীড়িত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি প্রথমে খোরশেদের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করে। কথাবার্তা দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে তারা তাকে ধাক্কা দিতে থাকে। এরপর লাঠি ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে মারধর করা হয়, যা তাকে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে।

আক্রমণকারীরা খোরশেদের শ্বাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাকে পেটানো চালিয়ে যান। পুরো ঘটনাটি আশপাশের পথচারীরা দেখলেও কেউ হস্তক্ষেপ করে না বা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে না। এই নিষ্ক্রিয়তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জানান, খোরশেদ ও সন্দেহভাজীদের মধ্যে পূর্বে কোনো শত্রুতা বা বিরোধের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে তর্কের ফলে এই হিংসা ঘটেছে।

পুলিশের মতে, আক্রমণকারীরা মুখের দুর্গন্ধের অভিযোগে খোরশেদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত শারীরিক হিংসায় রূপ নেয়। এই বিষয়টি তদন্তের মূল দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চলছে।

খোরশেদের আহত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, চিকিৎসকগণ দ্রুত তার শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তসঞ্চালন পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।

ওসি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোনো সাক্ষীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হবে। বর্তমানে তিনজন সন্দেহভাজীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে খোরশেদের মৃত্যুর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে আদালতে মামলা দায়ের করে ন্যায়বিচার চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হবে।

পুলিশের তদন্ত দল এখন পর্যন্ত প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বর্ণনা এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করছে। ওসি জানান, প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত চার্জ শিট প্রস্তুত করে আদালতে দাখিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন যে, কোনো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে হবে এবং পথচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে। সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments