ঢাকা – টেক্সটাইল শিল্পের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সরকার যদি এই মাসের মধ্যে ১০‑৩০ কাউন্টের কটন ইয়ারের ডিউটি‑ফ্রি বন্ড সুবিধা বাতিলের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ কার্যকর না করে, তবে ফেব্রুয়ারি ১ তারিখ থেকে তাদের স্পিনিং মিলগুলো বন্ধ করে দেবে।
বিএটিএমএর সভাপতি শোয়কত আজিজ রাসেল আজ ঢাকা শহরে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রভাব ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পূর্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১০‑৩০ কাউন্টের ইয়ারের উপর বন্ড সুবিধা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে রক্ষা করা যায়।
বন্ড সুবিধা হল এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে রপ্তানি‑মুখী শিল্পগুলো কাঁচামাল ডিউটি‑ফ্রি আমদানি করতে পারে, শর্ত থাকে যে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পগুলো উৎপাদন খরচ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে পারে।
রাসেল জোর দিয়ে বলেন, ডিউটি‑ফ্রি সুবিধা প্রত্যাহার করা নতুন কোনো শুল্ক আরোপের সমতুল্য নয়; আমদানিকারীরা এখনও সরকার থেকে ডিউটি রিফান্ডের দাবি করতে পারবে। ফলে, বন্ড সুবিধা বন্ধ হলেও ডিউটি‑ব্যাকড্রয়িং প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
বাণিজ্য ও ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একই সুপারিশ উপস্থাপন করেছে, যা বিএটিএমএর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে। এই সুপারিশের মূল লক্ষ্য হল দেশীয় স্পিনিং মিলের উৎপাদন ক্ষমতা রক্ষা করা এবং অতিরিক্ত ডিউটি‑ফ্রি আমদানি থেকে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া রোধ করা।
ডিউটি‑ফ্রি সুবিধা প্রত্যাহার না হলে, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোকে বিদেশি সরবরাহের সঙ্গে মূল্য ও বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে, যা তাদের লাভজনকতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়াবে। বিশেষ করে ১০‑৩০ কাউন্টের সূক্ষ্ম ইয়ারের ক্ষেত্রে, বিদেশি সরবরাহের দাম তুলনামূলকভাবে কম, ফলে দেশীয় উৎপাদনের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে।
বিএটিএমএর মতে, যদি সরকার এই মাসের শেষের মধ্যে সুপারিশ কার্যকর না করে, তবে ফেব্রুয়ারি ১ তারিখের পর স্পিনিং মিলগুলো ধারাবাহিকভাবে বন্ধ হবে, যা সরাসরি রপ্তানি‑মুখী টেক্সটাইল শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করবে। এই বন্ধের ফলে রপ্তানি আয় কমে যাবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, ডিউটি‑ব্যাকড্রয়িং প্রক্রিয়া চালু থাকায় আমদানিকারীরা কিছুটা স্বস্তি পাবে, তবে ডিউটি‑ফ্রি সুবিধা না থাকলে কাঁচামালের মোট খরচ বৃদ্ধি পাবে। এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের চূড়ান্ত মূল্যে প্রতিফলিত হতে পারে, যা গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি স্পিনিং মিলের বন্ধের হুমকি বাস্তবায়িত হয়, তবে কটন ইয়ারের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সংকুচিত হয়ে দাম বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি টেক্সটাইল গুডসের উৎপাদন ও রপ্তানিতে দেরি সৃষ্টি করতে পারে, ফলে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
সরকারের নিকটবর্তী সময়ে নীতি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে শিল্পের উৎপাদন ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকে। একই সঙ্গে, ডিউটি‑ব্যাকড্রয়িং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মত পরিশোধ নিশ্চিত করা দরকার, যাতে আমদানিকারীরা অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না বহন করে।
বিএটিএমএর শেষ মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার না হলে শিল্পের বন্ধের হুমকি বাস্তবায়িত হবে, যা দেশের টেক্সটাইল সেক্টরের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করবে। তাই, নীতি নির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিল্পের চাহিদা ও বাজারের স্বাস্থ্যের সমন্বয় করা প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতি টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং সরকার ও শিল্পের মধ্যে সমন্বিত নীতি গঠনই একমাত্র সমাধান হতে পারে।



