19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনোয়াডায় গাড়ি গর্তে ডুবে ২৭ বছর বয়সী আইটি কর্মীর মৃত্যু

নোয়াডায় গাড়ি গর্তে ডুবে ২৭ বছর বয়সী আইটি কর্মীর মৃত্যু

নোয়াডা, দিল্লি উপশহরে গত শুক্রবার রাত প্রায় অর্ধরাতের সময় ২৭ বছর বয়সী আইটি পেশাজীবী ইউব্রাজ মেহতার গাড়ি অচিহ্নিত নির্মাণ গর্তে ধসে পানিতে ডুবে যায়। গাড়ি একটি নিম্ন প্রান্তিক প্রাচীর আঘাত করে গর্তে গিয়ে ডুবে যাওয়ার পরিণতি ঘটে।

মেহতা, যিনি সাঁতার জানতেন না, গাড়ি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির ছাদে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান জানাতে চেষ্টা করেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই নিজের পিতাকে ফোন করেন, যিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি সেবা সংস্থাকে জানিয়ে দেন।

পিতার ফোনে মেহতার কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যেখানে তিনি টর্চের আলো ব্যবহার করে ফোনের স্ক্রিনে আলোকিত করে সাহায্যের ডাক দিচ্ছিলেন। সূত্র অনুযায়ী, তিনি প্রায় দুই ঘন্টা ধরে গাড়ির ছাদে থেকে চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন।

দু’ঘণ্টা পর হঠাৎ করে মেহতার চিৎকার থেমে যায়। স্থানীয় মিডিয়া জানায়, গাড়ি সম্পূর্ণভাবে ডুবে যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ ঘন্টা পার হওয়ার সময়ই দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ উদ্ধার করার সময় গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পানিতে নিমজ্জিত ছিল।

মেহতার মৃত্যুর খবর দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে, এবং দিল্লি নিকটবর্তী নোয়াডার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক রাগ ও শোকের স্রোত দেখা যায়। ঘটনাস্থলে প্রতিবাদকারীরা সমাবেশ করে, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি চায়।

সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ঘটনাটিকে ‘মৃত্যুদণ্ড’ বলে সমালোচনা করেন এবং নোয়াডার অবকাঠামোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিছু মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুপযুক্ত সাইনেজ, অন্ধকারে অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং খোলা নিকাশী গর্তগুলো শহরের শিশু ও বয়স্কদের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বহু নাগরিকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে তারা খারাপ রাস্তা, অপ্রতুল সাইনেজ এবং অন্ধকারে অপর্যাপ্ত আলোয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটার কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে নির্মাণ সাইটের অচিহ্নিত গর্তগুলোকে মৃত্যুর ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনাকে ভারতের শহুরে পরিকল্পনা ও রোড সেফটির বৃহত্তর সমস্যার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। গর্তের কাজ কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল, তবে কাজ থেমে যাওয়ায় গর্তটি অচিহ্নিতই রয়ে যায়, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নোয়াডা পুলিশ গর্তটি যেখানে অবস্থিত সেই রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করেছে। প্রথম মামলা গর্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখার জন্য, দ্বিতীয়টি গর্তের চিহ্ন না লাগানোর জন্য। উভয় মামলায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে জরিমানা ও আইনি শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র ঘটনাস্থলে গৃহীত জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়ে বলেন, গর্তটি দ্রুত বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সাইনেজ ও আলোকসজ্জা বাড়ানো হবে। এছাড়া, গৃহীত আইনি ব্যবস্থা অনুসরণ করে দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং গর্তের মালিকানা, নির্মাণ অনুমোদন ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের যথাযথতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও নগর পরিকল্পনা বিভাগকে অবিলম্বে গর্তগুলো সনাক্ত ও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই দুঃখজনক ঘটনার মাধ্যমে নোয়াডা এবং সমগ্র দেশের শহুরে অবকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সাইনেজ, আলোকসজ্জা এবং নির্মাণ সাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের দাবি বাড়ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments