28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সব মিল বন্ধের ঘোষণা দিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সব মিল বন্ধের ঘোষণা দিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারী পদক্ষেপের অভাব এবং শিল্পের আর্থিক সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিটিএমএ‑এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল ২২ জানুয়ারি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংস্থার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী নীতি ও সহায়তা না থাকায় মিলগুলো আর কার্যকরীভাবে চলতে পারবে না।

সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সকল ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকবে এবং এই বন্ধের মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকবে। মিলগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা না থাকায় আর কোনো বিকল্প নেই, এ কথাও তিনি জোর দেন।

বিটিএমএ‑এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে টেক্সটাইল মিলগুলোর মূলধন প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায়, সম্পদ বিক্রি করলেও ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে না বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মিলগুলোর আর্থিক সংকট সমাধানের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো সমাধান বা সুরাহা পাওয়া যায়নি। এই ব্যর্থতা শিল্পের ভবিষ্যৎকে অস্থির করে তুলেছে।

প্রেসিডেন্ট রাসেল আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগের পরেও তারা কেবল দায়িত্ব অন্যের কাছে হস্তান্তর করে যাচ্ছে, যা সমস্যার সমাধানে কোনো সহায়তা করছে না।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি উৎপাদন বন্ধ হবে, ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কাজের সুযোগ হুমকির মুখে পড়বে। টেক্সটাইল মিলগুলো দেশের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে, তাই বন্ধের প্রভাব ব্যাপক হবে।

মিল বন্ধের ফলে সুতা ও ফ্যাব্রিকের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে, যা গার্মেন্টস শিল্পের উৎপাদন শৃঙ্খলকে ব্যাহত করবে। রপ্তানি ভিত্তিক গার্মেন্টস কোম্পানিগুলো অর্ডার পূরণে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

ব্যাংকগুলোর জন্যও এই পরিস্থিতি ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে, কারণ টেক্সটাইল সেক্টরের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বকেয়া ঋণ পুনরুদ্ধারে সমস্যার মুখে। ঋণ পুনর্গঠন বা ডিফল্টের সম্ভাবনা আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াবে।

গার্মেন্টস রপ্তানি, কাঁচামাল সরবরাহকারী এবং লজিস্টিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও সরাসরি প্রভাবিত হবে। মিল বন্ধের ফলে চেইনের নিচের স্তরে আয় কমে যাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ধীর করবে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সরকার দ্রুত ও কার্যকরী সহায়তা না প্রদান করে, তবে টেক্সটাইল সেক্টরে আরও বন্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নীতিগত হস্তক্ষেপ, আর্থিক রিলিফ এবং বকেয়া ঋণ সমাধানই শিল্পের পুনরুজ্জীবনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, বিটিএমএ‑এর এই অপ্রত্যাশিত বন্ধের ঘোষণা দেশের টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান সংকটকে উন্মোচিত করেছে এবং তা দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়তে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments