সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রবিবার সন্ধ্যায় পার্ক সিটির ইক্লেস থিয়েটারে রুফাস ওয়াইনরাইট এবং নোরা জোন্স একসাথে মঞ্চে আসবেন। দুজনই নতুন প্রকাশিত ডকুমেন্টারি ‘ব্রোকেন ইংলিশ’ এর প্রিমিয়ার পর সরাসরি পারফরম্যান্স দেবেন, যা মারিয়ান ফেইথফুলের জীবন ও সঙ্গীতকে কেন্দ্র করে তৈরি। এই অনুষ্ঠানটি ফেস্টিভ্যালের স্পটলাইট সেকশনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে, ফলে দর্শকদের জন্য সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের দুটোই অভিজ্ঞতা একসাথে উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে।
ইক্লেস থিয়েটার, পার্ক সিটি, ইউটাহের ঐতিহাসিক স্থাপনা, এই সন্ধ্যায় দুজন আন্তর্জাতিক সঙ্গীতশিল্পীর সুরে ভরপুর হবে। পারফরম্যান্সের সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে ফেস্টিভ্যালের অফিসিয়াল সূচিতে এটি রবিবার রাতের শো হিসেবে তালিকাভুক্ত। উভয় শিল্পীই তাদের স্বতন্ত্র সুর ও গানের মাধ্যমে ফেইথফুলের সঙ্গীতের প্রতি সম্মান জানাবেন বলে জানা গেছে।
‘ব্রোকেন ইংলিশ’ চলচ্চিত্রটি ইয়ান ফোরসিথ এবং জেন পোলার্ডের যৌথ দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মিত, যা গত শরতে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিশ্বপ্রথম দেখানো হয়েছিল। এই ডকুমেন্টারিটি ফেইথফুলের ক্যারিয়ারকে এক অনন্য দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যেখানে তার সঙ্গীত, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং শিল্পী হিসেবে তার অবদানকে সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের শিরোনামই ইঙ্গিত দেয় যে তার জীবনের অশান্তি ও সৃজনশীলতা একসাথে মিশে গঠিত।
চলচ্চিত্রের শুরুতে ‘মিনিস্ট্রি অফ নট ফর্গেটিং’ নামে কাল্পনিক একটি গবেষণা কেন্দ্রের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে টিল্ডা স্বিনটন এবং জর্জ ম্যাককে অভিনয় করেছেন। তারা ফেইথফুলের জীবনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করার জন্য একটি তদন্তের সূচনা করেন। এই কাল্পনিক উপাদানটি বাস্তব আর্কাইভাল ফুটেজ এবং পারফরম্যান্স ক্লিপের সঙ্গে মিশে একটি সৃজনশীল বর্ণনা গড়ে তুলেছে। চলচ্চিত্রে সোপিয়া ডি মার্টিনো, জাওয়েস্টন, ক্যালভিন ডেম্বা, নিক কেভ, ওয়ারেন এলিস, কোর্টনি লাভ, সুকি ওয়াটারহাউস, বেথ অর্টন এবং জেহনি বেথের মতো পরিচিত নামগুলোও উপস্থিত, যা দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ যোগ করেছে।
মারিয়ান ফেইথফুল, যিনি ৭৮ বছর বয়সে ৩০ জানুয়ারি ২০২৫-এ মৃত্যুবরণ করেন, তার ক্যারিয়ার ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল। তিনি গীতিকার, গায়িকা এবং শিল্পী হিসেবে বহু প্রজন্মের সঙ্গীতপ্রেমীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার মৃত্যু পরবর্তী বছরেই এই ডকুমেন্টারিটি প্রকাশ পায়, যা তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে তার সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি।
সান্ডান্সের প্রোগ্রামিং ডিরেক্টর কিম ইউতানি এই পারফরম্যান্সের ঘোষণা একটি প্রেস স্বাগত অনুষ্ঠানে দিয়েছিলেন, যা পার্ক সিটিতে অবস্থিত ‘দ্য পার্ক’ নামক স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সান্ডান্সের ইউজিন হের্নান্দেজ, মিশেল সাটার, জন নাইন এবং রবার্ট রেডফোর্ডের কন্যা এ্যামি রেডফোর্ড উপস্থিত ছিলেন। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ইভেন্টের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে এবং পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘ব্রোকেন ইংলিশ’ ফেস্টিভ্যালের স্পটলাইট বিভাগে অন্তর্ভুক্ত, যা ফিল্মের শিল্পমূল্য ও সৃজনশীল দিককে স্বীকৃতি দেয়। ফোরসিথ ও পোলার্ডের পূর্বের কাজ ‘২০,০০০ ডেজ অন আর্থ’ ২০১৪ সালে সান্ডান্সে সাফল্য অর্জন করেছিল, ফলে এই দম্পতির সঙ্গে আবারও সান্ডান্সের সংযোগ গড়ে তোলার প্রত্যাশা বাড়ে। তাদের চলচ্চিত্রশৈলী প্রায়ই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়কে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
চলচ্চিত্রে উপস্থিত অন্যান্য শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীর নামগুলোও দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি করে। নিক কেভ ও ওয়ারেন এলিসের সঙ্গীত সহযোগিতা, কোর্টনি লাভের উপস্থিতি এবং সুকি ওয়াটারহাউসের আধুনিক শৈলীর মিশ্রণ চলচ্চিত্রকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। এই সমন্বয়টি ফেইথফুলের বহুমুখী সঙ্গীত জগতকে প্রতিফলিত করে এবং দর্শকদের জন্য সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
সান্ডান্সে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করা দর্শকদের জন্য সময়মতো টিকিট বুক করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পারফরম্যান্সের দিন ও স্থান সীমিত। এছাড়া, ফেস্টিভ্যালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘ব্রোকেন ইংলিশ’ চলচ্চিত্রের স্ক্রিনিং সময়সূচি ও ইক্লেস থিয়েটারের পারফরম্যান্সের সঠিক সময় জানানো হবে। সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের এই সমন্বিত অনুষ্ঠানটি সান্ডান্সের সংস্কৃতি ও শিল্পের সমৃদ্ধি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যা শিল্পপ্রেমীদের জন্য মিস করা যায় না।



