বিএলপি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেট টাইটান্স ১২ রানের পার্থক্যে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হাতে পরাজিত হওয়ার পর দলীয় উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উত্থাপন করেন। এই ঘটনা বুধবার রাতের পরেই প্রকাশ পায়, যখন টাইটান্সের পরাজয় টুর্নামেন্টের ফলাফলকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
ম্যাচের শুরুতে সিলেট ১৬৬ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুটিং শুরু করে। এক পর্যায়ে দলটি ৪১ রানের প্রয়োজনীয়তা থেকে ৪০ রন ২১ বলের মধ্যে অর্জনের অবস্থায় পৌঁছায়, যা দেখায় তারা জয়লাভের কাছাকাছি ছিল। তবে শেষের ওভারে গতি হারিয়ে দলটি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় এবং শেষ স্কোরে ১২ রনে পিছিয়ে থাকে।
এই পরাজয়ের ফলে সিলেট টাইটান্স টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে, আর রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স ফাইনালে অগ্রসর হয়। পরাজয়ের পর দলীয় উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী মিডিয়ার সামনে তার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দৃশ্যমানভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন।
পদত্যাগের ঘোষণার পর ফাহিম রাতে ফেসবুক লাইভে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, টিমের মধ্যে কোনো ব্যক্তি ম্যাচের ফলাফল বিক্রি করে দলকে ধোঁকা দিয়েছে। তিনি এই ব্যক্তিকে ‘সিলেটের প্রতি বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তার কাজকে সিলেটের মানুষের অনুভূতির প্রতি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফাহিমের মতে, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কত টাকা দরকার তা জানাতো, তবে তা ব্যবস্থা করা যেত। তবে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বিক্রি করে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিষয়টি সহজে উপেক্ষা করা যাবে না এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ফাহিম এই পরাজয়কে ‘খেলাধুলার ফলাফল নয়, বরং বিশ্বাসঘাতকতার ফল’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ম্যাচটি সম্পূর্ণভাবে বিকৃত হয়েছে এবং দর্শকরা তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে। এই বক্তব্যের পর তিনি পুনরায় জোর দেন যে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তদন্তের আওতায় থাকবে।
বিএলপি বর্তমানে বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের কারণে অস্থিরতা অনুভব করছে। সিলেটের পরাজয় এবং ফাহিমের অভিযোগ টুর্নামেন্টের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে আয়োজক সংস্থা এখনও ম্যাচের ফলাফল সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
পরবর্তী সময়ে টুর্নামেন্টের শিডিউল অনুযায়ী অন্যান্য দলগুলো তাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিলেট টাইটান্সের এই পরাজয় তাদের টুর্নামেন্ট যাত্রা শেষ করে দিয়েছে, তবে বাকি দলগুলো এখনো শিরোপা জয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।
ফাহিমের অভিযোগের ফলে টিমের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং খেলোয়াড়দের মনোভাবের ওপর প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ধরনের অভিযোগ ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএলপি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা না থাকলেও, ফাহিমের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রত্যাশিত। ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল দিক থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।



