সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার বিকাল একটায় অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবের কথা জানিয়ে বলেন, “তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব”। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, আর সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্য ও সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে তালি দিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের স্বাগত জানায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। আমরা পেছনে তাকাই না, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই”। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “আজ একটি দল আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা রটাচ্ছে এবং মিথ্যা কথা বলছে, এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও মিথ্যা রটনা করছে”।
বিএনপির এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা এই দলটিকে চেনেন? কোন দলটি ভোট পাবে? এরা কি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে?” তিনি উল্লেখ করেন, “আজ তারা বলছে, এরা নাকি বাংলাদেশকে নতুন করে শুরু করবে”। এ ধরনের মন্তব্যকে তিনি দেশের স্বার্থের প্রতি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
মির্জা ফখরুল আরও যোগ করেন, “আমাদের সাবধান থাকতে হবে এসব দল এবং ব্যক্তির কাছ থেকে, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়”। তিনি বর্তমান লড়াইকে “আজকের লড়াই তাদের বিরুদ্ধে” হিসেবে উল্লেখ করে, “এই লড়াইয়ে আমাদের জয়লাভ করতে হবে” বলে আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের বক্তব্যের পর মির্জা ফখরুল সিলেটের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই সিলেট সেই সিলেট, যেখানে এম এ জি ওসমানীর জন্ম হয়েছে” এবং “এই সিলেট সেই সিলেট, যেখানে উন্নয়নের নেতা সাইফুর রহমানের জন্ম হয়েছে”। এছাড়া তিনি ইলিয়াস আলীর কথা স্মরণ করে বলেন, “এই সিলেট সেই সিলেট, যেখানে ইলিয়াস আলী অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে গুম হয়েছেন”।
বিএনপির মহাসচিব অতিরিক্তভাবে জোর দিয়ে বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছে, মিথ্যা মামলায় পড়েছে, গুম হয়েছে, কিন্তু কখনো মাথা নত করেনি”। তিনি এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে মির্জা ফখরুলের আরও একটি উল্লেখযোগ্য মন্তব্য ছিল, “আজ তারেক রহমান সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। এই যাত্রা আগামী দিনের বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজানোর একটি যাত্রা”। তিনি তারেক রহমানের পরিকল্পনা ও চিন্তাধারাকে দেশের গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিএনপির এই জনসভা সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আয়োজিত হয়, যেখানে স্থানীয় স্তরে দলের সমর্থক ও কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশের সময় উপস্থিতদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের মানুষ, ছাত্র, ব্যবসায়ী ও কৃষক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের ঘোষণাকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে মির্জা ফখরুলের মন্তব্যে স্পষ্ট যে, দলটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের কাছে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছে দিতে চায়।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, বিএনপির এই ধরনের উচ্চস্বরে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবের ঘোষণা পার্টির অভ্যন্তরীণ সংহতি বাড়াতে এবং নির্বাচনী মঞ্চে তারেক রহমানের প্রোফাইলকে উঁচুতে তুলতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একই সঙ্গে, এই ঘোষণার ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত প্রতিক্রিয়া এবং ভোটারদের মনোভাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সিলেটের এই জনসভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, দলের কর্মীরা পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের ভিত্তিতে, দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে জনসভার আয়োজন করে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখবে।



