এমিরেটস এয়ারলাইন্স দুবাই ইনভেস্টমেন্ট পার্কে একটি বৃহৎ আবাসিক কমপ্লেক্স গড়ে তুলবে বলে ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল কেবিন ক্রু কর্মীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্বয়ংসম্পূর্ণ বাসস্থান তৈরি করা।
প্রকল্পের মোট ব্যয় কয়েক বিলিয়ন দিরহাম বলে অনুমান করা হয়েছে এবং এতে ২০টি ১৯ তলা উচ্চতার টাওয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রত্যেক টাওয়ারে আলাদা সুবিধা থাকবে যাতে বাসিন্দারা শিফটের সময় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন।
প্রায় ১২,০০০ কেবিন ক্রু সদস্যকে এই ভিলেজে বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে। এতে রিটেইল শপ, উচ্চমানের রেস্তোরাঁ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা কেন্দ্রগুলো একসাথে থাকবে, ফলে কর্মীরা বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে।
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভিলেজে আধুনিক ফিটনেস সেন্টার, ক্লিনিক এবং সবুজে ঘেরা উন্মুক্ত চত্বর স্থাপন করা হবে। এছাড়া রিসোর্ট-স্টাইলের সুইমিং পুল এবং ল্যান্ডস্কেপড গার্ডেনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রতিটি ভবনে স্বতন্ত্র নাগরিক সুবিধা রাখা হবে যাতে কোনো একক স্থানে ভিড় না হয় এবং শিফটের সময় কর্মীরা স্বতন্ত্রভাবে সময় কাটাতে পারেন। এই নকশা কর্মীদের কাজের চাপ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে ভিলেজটি দুবাই আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট এবং দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রালের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। এই অবস্থান কর্মীদের বিমানবন্দরে দ্রুত পৌঁছানোর সুবিধা দেবে এবং লজিস্টিক খরচ কমাবে।
প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শুরু হবে এবং প্রথম ধাপের সমাপ্তি ২০২৯ সালের মধ্যে লক্ষ্য করা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়ে পুরো কমপ্লেক্সের ব্যবহারযোগ্যতা অর্জন করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের স্বয়ংসম্পূর্ণ কর্মী বাসস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে এমিরেটসের কর্মী ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। উচ্চমানের সুবিধা প্রদান কর্মীদের সন্তুষ্টি বাড়াবে এবং নতুন নিয়োগের আকর্ষণ বাড়াবে।
এছাড়া, দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজারে এই বড় বিনিয়োগের ফলে স্থানীয় নির্মাণ সেক্টরে চাহিদা বাড়বে। প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী কন্ট্রাক্টর ও সরবরাহকারীরা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি থেকে উপকৃত হবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কয়েক বিলিয়ন দিরহামের এই ব্যয় এমিরেটসের মোট মূলধন ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তবে কর্মী কল্যাণে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রোগজনিত অনুপস্থিতি ও কর্মক্ষমতা হ্রাস কমে, ফলে অপারেশনাল খরচে সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পের স্বয়ংসম্পূর্ণ মডেল ভবিষ্যতে অন্যান্য এয়ারলাইন বা বড় কর্পোরেশনের জন্য রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে। যদি সফল হয়, তবে একই ধরনের কর্মী হাব গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, দুবাই ইনভেস্টমেন্ট পার্কে এমিরেটসের কেবিন ক্রু ভিলেজ প্রকল্প কর্মী কল্যাণ, রিয়েল এস্টেট সেক্টর এবং কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



