চট্টগ্রাম রয়্যালস শুক্রবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছে। দলের ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান মিডিয়ার সামনে দলীয় প্রস্তুতি ও দেশের টি২০ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বিপিএল ফাইনালের আগের দিন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা শহরের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। মাহেদি জানান, বৈঠকে উপস্থিত হলে এখন পর্যন্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।
খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো পূর্ব আলোচনা হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে, ক্যাপ্টেন স্পষ্ট করে বলেন, “না, এমন কোনো আলোচনা হয়নি। বিশ্বকাপ দলের প্রতিটি সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে এই বৈঠকের তথ্য পাঠানো হয়েছে। আমরা যখন সেখানে পৌঁছাব, তখনই সবকিছু পরিষ্কার হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বৈঠকের আগে কোনো গোপনীয় আলোচনা না হওয়ায় সবাইকে সমানভাবে জানানো হয়েছে।
গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ দলের ভারতীয় মাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোকে অন্য দেশে স্থানান্তর করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার সময় দেয়, যাতে টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
আইসিসির ঘোষণার পর রাতের দেরিতে খেলোয়াড়দেরকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিতে বলা হয়। এই অপ্রত্যাশিত সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, মাহেদি ব্যাখ্যা করেন, “যদি আমাদের মতামত চাওয়া হয়, তবে তা বোর্ড ও সরকারের হাতে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ক্যাপ্টেনের মতে, “একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে ইচ্ছা থাকে, তবে শেষ সিদ্ধান্ত বোর্ডের এবং সরকারের হাতে।” তিনি সরকারকে “আমাদের রক্ষাকর্তা” বলে উল্লেখ করে, খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হল তাদের নির্দেশ অনুসরণ করা।
বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না থাকলেও, খেলোয়াড়দের মনোভাব স্পষ্ট। তারা দেশের গৌরবের জন্য প্রস্তুত, তবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রিকেট বোর্ডের নীতি অনুসরণই হবে প্রধান দিকনির্দেশনা।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল আইসিসি দ্বারা প্রত্যাখ্যাত স্থানান্তর অনুরোধের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা। খেলোয়াড়দেরকে বৈঠকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে, যাতে তারা সরাসরি উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা ভাগ করে নিতে পারে।
এই বৈঠক বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি দলটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, তবে তা দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অন্যদিকে, যদি অংশগ্রহণ না হয়, তবে খেলোয়াড়দেরকে ঘরে বসে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।
মাহেদি উল্লেখ করেন, “আমরা সবসময় দেশের গর্ব বাড়াতে চাই, তবে তা করার জন্য সঠিক অনুমোদন প্রয়োজন।” তিনি দলের মনোবল বজায় রাখতে বলছেন, যে কোনো সিদ্ধান্তে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
বিপিএল ফাইনাল এবং বিশ্বকাপ বৈঠক দুটোই দেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। চট্টগ্রাম রয়্যালসের ফাইনাল ম্যাচে দলটি শক্তি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, আর বৈঠকের ফলাফল নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না।
সর্বশেষে, মাহেদি হাসান সব খেলোয়াড়কে অনুরোধ করেন, “বৈঠকে উপস্থিত হয়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করুন, যাতে দেশের ক্রীড়া নীতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈঠকের পর সব অজানা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।



