ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ১১টায় ঢাকা‑৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিক প্রচার চালু করলেন। তিনি বাংলাবাজারে পথসভা পরিচালনা করে, নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটের সুযোগের আবেদন জানালেন। প্রচার শুরুর আগে, সকাল ১০টায় তিনি জুরাইন কবরস্থানে গিয়ে তার পিতার সমাধি পরিদর্শন করেন, যিনি পূর্বে ঢাকার মেয়র ছিলেন।
কবরস্থানে সমাধি জিয়ারের পর, ইশরাক হোসেন বাংলাবাজার চৌরাস্তা থেকে হেঁটে নির্বাচনী সফর শুরু করেন। ঢাকা‑৬ আসনটি সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া এবং কোতোয়ালি (আংশিক) থানা সমন্বিত, যেখানে পাইকারি‑খুচরা ব্যবসা বিস্তৃত। প্রচারের প্রথম দফায় তিনি সূত্রাপুরের বেশ কয়েকটি মোটরপার্টস ও বইয়ের মার্কেট পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি ভোটের জন্য ধানের শীষ চিহ্নিত করে প্রতীকী চাহিদা প্রকাশ করেন।
এরপর তিনি বাংলাবাজারের বইয়ের মার্কেটে পথসভা চালিয়ে যান। ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে, সমর্থন প্রকাশ করেন। পথসভায় ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি আজ আপনার সামনে আপনার সন্তান হিসেবে এসেছি, আপনারা আমাকে একটি সুযোগ দিন।” তিনি অতীতে কোনো সরকারি বা সাংগঠনিক দায়িত্বে না থাকায়, প্রথমবারের মতো ভোটের জন্য আবেদন করছেন তা উল্লেখ করেন।
ইশরাক হোসেন এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলোও তুলে ধরেন। তিনি গ্যাসের সংকট, যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ু‑শব্দ‑পানির দূষণসহ বহু পরিবেশগত সমস্যার কথা বলেন, যা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যার সমাধানে তিনি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বলে জানান, যদিও বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তার বিস্তৃত প্রস্তাবনাও উল্লেখ করা হয়। তিনি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন, যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রচারের সময়, উপস্থিত ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা তার বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে, ভবিষ্যতে উন্নয়নের আশা প্রকাশ করেন। তবে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখনও তাদের নিজস্ব প্রচারসূচি প্রকাশ করেনি, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে তীব্র করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ইশরাক হোসেনের এই প্রচারাভিযান নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি যদি ভোটের সুযোগ পান, তবে ঢাকা‑৬ আসনের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ পরিবর্তিত হতে পারে, বিশেষত ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ভোটারদের সমর্থন অর্জনের ক্ষেত্রে।
প্রচারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ইশরাক হোসেনের দল বিভিন্ন থানা ও বাজারে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সমস্যার সমাধানই তার মূল অগ্রাধিকার, এবং এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য তিনি স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
এই প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে, ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃঢ় হয়েছে এবং তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন। তার বক্তব্য ও পরিকল্পনা, বিশেষত গ্যাস সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধান, ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকা‑৬ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ এখনো গতি পায়। ইশরাক হোসেনের প্রচার শুরু হওয়ায়, অন্যান্য প্রার্থীদেরও দ্রুত তাদের ক্যাম্পেইন চালু করার প্রত্যাশা রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তীব্র করবে।



