একজন স্থানীয় ট্যাক্সি চালক সাম্প্রতিক সময়ে এক পর্যটকের সঙ্গে কথোপকথনে উল্লেখ করেন, তিনি ভাড়া নেবেন না এবং বিদায় নিতে চাইলে হ্যান্ডশেক ভুলে গেছেন বলে তির্যক মন্তব্য করেন। এই কথাটি সরাসরি ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের অতীতের একটি ঘটনার স্মরণ করিয়ে দেয়।
গত বছরের এশিয়া কাপের সময় ভারতীয় দল পাকিস্তানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক প্রত্যাখ্যান করেছিল, যা তখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ক্ষেত্রের উত্তেজনা বাড়ে, এবং এই ঘটনা এখনো স্মরণীয়।
পেহেলগাম হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে উভয় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তীব্রতর হয়। এই প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটের এই ছোট্ট ইঙ্গিতটি আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারদের হ্যান্ডশেক না করা সিদ্ধান্তকে নিয়ে বিশ্লেষক ও ভক্তদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। কিছুজন এটিকে ক্রীড়া নীতি হিসেবে সমর্থন করেন, আবার অন্যরা এটিকে কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) সাম্প্রতিক প্রচারমূলক ভিডিওটি ভারতের জনপ্রিয় ‘মৌকা মৌকা’ বিজ্ঞাপনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ঐ বিজ্ঞাপনটি আইসিসি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সাফল্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছিল।
‘মৌকা মৌকা’ বিজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সংস্করণে পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ভারতীয় দলকে ‘মৌকা’ (অবসর) এর সুযোগে পাকিস্তানের ওপর জয়লাভের দৃশ্য দেখানো হয়।
পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম ম্যাচটি ২৯ জানুয়ারি, দ্বিতীয়টি ৩১ জানুয়ারি এবং তৃতীয়টি ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
সিরিজের সব তিনটি ম্যাচই লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। গাদ্দাফি স্টেডিয়াম পাকিস্তানের প্রধান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু, যেখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচের আয়োজন হয়েছে।
এই সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দলটি বিভিন্ন বিতর্ক ও পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে দলটি তার শক্তি পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করেছে।
ম্যাচগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, যা ভক্তদের জন্য বড় আকর্ষণ তৈরি করবে। টিকিটের বিক্রয়ও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগ্রহী দর্শকরা দ্রুত সিট বুক করতে পারছেন।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই সিরিজের মাধ্যমে পাকিস্তান তার হোম গ্রাউন্ডে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে পারে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলকে নতুন কৌশল পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে।
সারসংক্ষেপে, ট্যাক্সি চালকের মন্তব্যে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের অতীতের স্মরণীয় মুহূর্তের ইঙ্গিত উঠে এসেছে, এবং একই সময়ে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া টি২০ সিরিজের তারিখ ও ভেন্যু স্পষ্ট হয়েছে, যা উভয় দেশের ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়ের সূচনা করবে।



