ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে ২১ জানুয়ারি রাত ৮:৩০ টার দিকে ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ডাকাতি পরিকল্পনা করছিল এমন পাঁচজনকে গৃহহীন অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি‑দক্ষিণ) পরিচালিত বিশেষ অভিযানটি চুনকুটিয়া এলাকায় সংঘটিত হয়, যেখানে অপরাধীরা সাধারণ নাগরিকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে চূড়ান্ত ডাকাতি প্রস্তুত করছিল।
অভিযানটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা অধীনে কাজ করা অন-ডিউটি সি.আই. (নিরস্ত্র) প্রদীপ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে গৃহবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। রাতের অন্ধকারে চুনকুটিয়া এলাকার গলি ও গৃহবন্দি গৃহগুলোতে অনুসন্ধান চালানোর পর, ভুয়া ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধে লিপ্ত পাঁচজনকে হাতে‑হাতে ধরা পড়ে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানা এলাকার বাসিন্দা মো. শাকিল (২৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৮), নাহিদ হোসেন (২৫), মো. আলমগীর ইসলাম (৩৮) এবং মো. সজল আলী (২৫) অন্তর্ভুক্ত। সকল সন্দেহভাজনকে গৃহবন্দি গৃহে আটক করে, পরবর্তীতে পুলিশ স্টেশনে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযানের সময় একটি মাইক্রোবাস, প্লাস্টিকের পিস্তল, শিকারী রাইফেল, হ্যান্ডকাফ, স্টিলের লাঠি এবং সবুজ রঙের পিভিসি লাঠি সহ বিভিন্ন অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এই সামগ্রীগুলোকে অপরাধের সরঞ্জাম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে যে তারা ভুয়া ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছিল এবং বড় আকারের ডাকাতি কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা বলেছে, “ডিবি” নামের ছদ্মবেশে লোকজনকে ধোঁকা দিয়ে টাকা নেওয়া এবং চূড়ান্ত চুরি পরিকল্পনা করা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
সেই দিন বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের ঢাকা জেলা আদালতে উপস্থিত করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকলেও, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে তারা ‘ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ’ এবং ‘ডাকাতি প্রস্তুতি’ সংক্রান্ত আইনের অধীনে অভিযুক্ত হবে।
ডিবি‑দক্ষিণের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধ দমন করতে এমন ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে একই রকম ছদ্মবেশে কাজ করা অপরাধী সনাক্ত করতে গোয়েন্দা শাখা অতিরিক্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বাড়াবে।
অভিযানের সফলতা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ভুয়া ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে করা প্রতারণা ও সহিংসতা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য, যাতে সাধারণ মানুষকে আর কোনো ধরণের প্রতারণা বা হুমকি থেকে রক্ষা করা যায়।
এই ঘটনার পর, কেরানীগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ একত্রে কাজ করে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের ছদ্মবেশে কাজ করা অপরাধী সনাক্ত করতে তথ্য শেয়ারিং ও সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে।



