ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ কিউবার বর্তমান শাসন কাঠামোকে ভেঙে ফেলতে চায়। ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর সাম্প্রতিক সফল হস্তক্ষেপের পর, ট্রাম্পের দল কিউবায়ও একই রকম কৌশল প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনাটি অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে শাসনকে দুর্বল করার দিকে কেন্দ্রীভূত।
ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্জিত সাফল্য ট্রাম্পের জন্য আত্মবিশ্বাসের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সাফল্যকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে, ওয়াশিংটন এখন কিউবায়ও অনুরূপ পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, কিউবার দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাভানার অর্থনীতি এখন সংকটের মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, কিউবায় বর্তমানে তীব্র খাদ্য ঘাটতি, ওষুধের অভাব এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ঘটছে। এই পরিস্থিতি দেশীয় জনজীবনকে বিশৃঙ্খলায় ফেলেছে এবং সরকারকে দুর্বল করেছে। তদুপরি, কিউবার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের পদক্ষেপ সরাসরি কিউবার জ্বালানি সংযোগকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সামরিক আক্রমণের স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও, হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে কিউবার অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের সন্ধান করছে, যারা মার্কিন স্বার্থে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। ভেনেজুয়েলার হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, ওয়াশিংটন এই অভ্যন্তরীণ সহযোগী খোঁজার কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজগুলোকে জব্দ করেছে, যার উদ্দেশ্য কিউবার জ্বালানি সরবরাহকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
এই আক্রমণাত্মক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মতবিরোধের সৃষ্টি করেছে। ফ্লোরিডায় বসবাসকারী কিউবান সম্প্রদায়ের কিছু গোষ্ঠী কঠোর পদক্ষেপকে সমর্থন করে, তবে অন্যদিকে কিছু সরকারি কর্মকর্তারাও ১৯৫৯ সালের পর কিউবায় মার্কিন নীতির ব্যর্থতার ইতিহাস উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করছেন। তারা উল্লেখ করেন, দশকের পর দশক ধরে চালু থাকা অর্থনৈতিক অবরোধ কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে উথালেনি।
তবুও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবার শাসনকে উৎখাত করা তার পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে কিউবাকে সরাসরি হুমকি জানিয়েছে, যা কিউবার সরকারকে উদ্বিগ্ন করেছে। তবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল এই হুমকিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কোনো বৈধতা নেই বলে জোর দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে কিউবায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন মোড় নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ সহযোগী সন্ধানের ফলাফল কিউবার শাসনকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। ভবিষ্যতে কিউবায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকে নজর রেখে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং কিউবার জনগণের অবস্থার উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা নীতি এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। কিউবার শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জিত হলে, তা ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পুনঃসংজ্ঞা ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, কিউবার সরকার যদি এই চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখে, তবে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবায় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা চালু করেছে, যা অর্থনৈতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সহযোগী সন্ধানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং কিউবার শাসনের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সময়ের সাথে সাথে এই কৌশলের ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হবে।



