ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ বিকেলে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) কনভিনার নাহিদ ইসলাম নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন। তিনি দেশের সর্বজনীন নির্বাচনের প্রস্তুতি জানিয়ে বলেন, পার্টির প্রধান লক্ষ্য হল ভোট জয় করে সরকার গঠন করা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই, তা যাই হোক না কেন। আমাদের একমাত্র এজেন্ডা হল ভোট জয় করা এবং সরকার গঠন করা”। এই বক্তব্যে তিনি পার্টির জয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ক্যাম্পেইন উদ্বোধনের অংশ হিসেবে তিনজন জাতীয় নেতার সমাধি ও শারিফ ওসমান হাদীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল ১১:৩০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডয়েল চত্বরের নিকটে টিন নেটার মাজারে আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়, এরপর শারিফ ওসমান হাদীর সমাধিতে আরেকটি প্রার্থনা করা হয়।
নাহিদ ইসলাম সমগ্র বাংলাদেশকে ১০-দলীয় জোট এবং এনসিপি-র প্রার্থীকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। পার্টির প্রতীক “শাপলা কলি”কে ভোটারদের কাছে পরিচিত করিয়ে, তিনি ভোটারদের এই প্রতীককে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন।
এছাড়া তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যদিও অফিসিয়াল ক্যাম্পেইন এখনো শুরু হয়নি, তবু তারা প্রচার চালাচ্ছে। কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে”। এই মন্তব্যে তিনি কমিশনের পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।
এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি ক্যাম্পেইনের অন্যান্য কার্যক্রমের কথা জানান। তিনি বলেন, আজকের কার্যক্রমে তিনজন নেতার সমাধি পরিদর্শন, ধারা-ধারা করে পারেড এবং ঢাকা অঞ্চলে ন্যায়বিচারের জন্য মার্চে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ধারাবাহিকভাবে, পার্টি সদস্যরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে একটি রোডশো চালায়। এই রোডশোতে শাপলা কলি চিহ্নযুক্ত ব্যানার ও পোস্টার ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে পার্টির মূল লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
নাহিদ ইসলামের এই ক্যাম্পেইন উদ্বোধন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তিনি যদি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত করতে সফল হন, তবে এনসিপি-র ভোটার ভিত্তি ও জোটের সঙ্গে সমন্বয় দেশের সামগ্রিক ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিপক্ষ দলগুলো এখনো নাহিদ ইসলামের মন্তব্যের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণত সব দলই উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে।
নাহিদ ইসলাম এবং তার দল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে পূর্ণ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ক্যাম্পেইন উদ্বোধনের পরবর্তী ধাপে পার্টি বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলে সমাবেশের মাধ্যমে ভোটার সংযোগ বাড়াবে এবং শাপলা কলি প্রতীককে ভোটারদের কাছে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করবে।



