শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র জয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবস্থায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার মা দেশে ফিরে আসতে চান, তবে অবসর নিতে ইচ্ছুক।
শেখ হাসিনা, যিনি ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের ফলে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনে বসবাস করছেন, আর দেশের বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতা ও পার্টির উচ্চপদস্থ সদস্যদেরও বিদেশে আত্মগোপনে দেখা যায়। দেশে যারা অবশিষ্ট, তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার ও কারাগারে আটক।
জয় তার মায়ের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে বলেন, “আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।” তিনি যোগ করেন, মায়ের বয়স ৭৮ বছর হওয়ায় অবসর নেওয়া স্বাভাবিক এবং এটি তার শেষ মেয়াদ হতে পারে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জয় দৃঢ়ভাবে আশাবাদী রয়ে গেছেন। তিনি বলছেন, “অবশ্যই আছে। আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটা সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় দল। আমাদের ৪০-৫০ শতাংশ ভোট আছে। আপনি কি মনে করেন ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ হঠাৎ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে? দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন বন্ধ করে দেবে?”
প্রশ্ন করা হয়, যদি শেখ হাসিনা অবসর নেন এবং দেশে ফিরে না আসেন, তবে কি তাকে ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যাবে। জয় স্পষ্ট করে উত্তর দেন, “না, তার বয়স হয়েছে (৭৮ বছর)। এমনিতেই এটা তার শেষ মেয়াদ হত। তিনি অবসর নিতে চাচ্ছেন।”
এরপর তিনি আরও উল্লেখ করেন, “হ্যাঁ। আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটা সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে (শেখ হাসিনা) সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এ দল চলবে। তিনি… কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।” তার কথায় দলটির সংস্থাগত স্থায়িত্ব ও ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে।
জয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাড়িতে বসে সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়। তার অবস্থান থেকে দেখা যায়, পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে দলটি তার ঐতিহাসিক ভিত্তি ও বিশাল ভোটভিত্তি বজায় রাখবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে শেখ হাসিনার কাছের সহকর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত, বর্তমানে দেশের বাইরে আত্মগোপনে আছেন। দেশের ভিতরে যারা অবশিষ্ট, তাদের ওপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে, যা পার্টির কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করে।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং তার নেতৃত্বের সময়কালে পার্টি তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করেছে, তবে এখন তার অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশলকে পুনর্গঠন করতে পারে। জয়ের মন্তব্য অনুসারে, পার্টি তার ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর না করে, সংগঠিত কাঠামো ও ভোটভিত্তি বজায় রাখবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জয়ের এই দৃঢ় বক্তব্য পার্টির অভ্যন্তরে শাসন কাঠামোর পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্বের প্রস্তুতি নির্দেশ করে। যদিও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব অব্যাহত থাকবে, তবে তার সরাসরি অংশগ্রহণের অভাব পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশে পরিবর্তন আনতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য ও ভোটভিত্তি বজায় রেখে, শেখ হাসিনার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি যাই হোক, রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় থাকবে। তার মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, তবে পার্টির মৌলিক কাঠামো ও সমর্থনশীলতা অটুট থাকবে।



