ঢাকা, ২১ জানুয়ারি – বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে অপ্রত্যাশিত ব্যক্তির প্রবেশাধিকার সীমিত করার নির্দেশ প্রকাশিত হয়েছে। রেজিস্ট্রার জেনারেল প্রধান বিচারপতির আদেশে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে আদালতের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা লক্ষ্য। নির্দেশটি ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর এবং পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে।
সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচার অঙ্গন হিসেবে বিবেচিত, যেখানে প্রধান বিচারপতি ও উভয় বিভাগের বিচারপতি বিভিন্ন কোর্ট রুমে মামলাসমূহের শুনানি পরিচালনা করেন। আদালতের প্রতিটি ভবন, বারান্দা ও কোর্ট রুমকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি এবং উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উচ্চতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর বিচার পরিচালনা করতে পারেন না, এ কারণেই রেজিস্ট্রার জেনারেল এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন। নিরাপত্তা হুমকি, অপ্রত্যাশিত ব্যক্তির অনধিকার প্রবেশ এবং অনিয়মিত উপস্থিতি আদালতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিরা যদি আদালতের ভবন, বারান্দা বা কোর্ট রুমে প্রবেশ করে, তা নিরাপত্তা, শান্তি ও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, আদালতে কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবী, তাদের সহকারী এবং হলফকারী ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার থাকবে।
এই সীমাবদ্ধতা উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মচারীদের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। আদালতে অনধিকার প্রবেশকারী ব্যক্তিরা এখন থেকে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না, যতক্ষণ না বিশেষ অনুমোদন পাওয়া যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর এবং পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে। আদালত কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশের প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
পূর্বে আদালতে অনধিকার প্রবেশের কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অপ্রত্যাশিত দর্শকরা কোর্ট রুমে উপস্থিত হয়ে বিচারিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এসব ঘটনার পর্যালোচনার ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে।
কোর্টের নিরাপত্তা বিভাগ উল্লেখ করেছে, সীমাবদ্ধতা না থাকলে অনধিকার প্রবেশকারী ব্যক্তিরা আদালতের কাজকে ব্যাহত করতে পারে, যা বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করবে। তাই, এখন থেকে কেবলমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিরাই প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
কিছু আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, আদালত সর্বজনীন হওয়া উচিত এবং জনসাধারণের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা দরকার। তবে কোর্টের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা ও বিচারিক স্বচ্ছতার মধ্যে সমতা রক্ষা করা অপরিহার্য।
সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই কোর্টের কাজ স্বতন্ত্রভাবে চালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করা হবে।
এই নীতির সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্তকে কিছু দল স্বচ্ছতা হ্রাসের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে অন্যরা এটিকে বিচারিক স্বায়ত্তশাসনের রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
অধিকন্তু, কোর্টের প্রশাসন ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সময়ে দর্শকদের জন্য আলাদা ভিজিটর সেকশন গঠন করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এভাবে জনসাধারণের পর্যবেক্ষণ বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সার্বিকভাবে, সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপ্রত্যাশিত ব্যক্তির প্রবেশ সীমিত করা একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। আদালত কর্তৃপক্ষ সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে, যাতে বিচারিক প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে।
এই নির্দেশের কার্যকরী পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের জন্য কোর্টের নিরাপত্তা দল বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী সময়ে সময়ে জানানো হবে।



