মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার স্ব-উদ্যোগে পরিচালিত সামাজিক নেটওয়ার্কে জানিয়ে দিলেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর কোনো সামরিক পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করবেন না। এই মন্তব্যটি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিরতির সময় ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকাশিত হয়। ট্রাম্পের বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরির জন্য দুই পক্ষের সমঝোতা উল্লেখ করা হয়েছে।
দাভোসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকার একটি অংশ এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পূর্বে যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছিলেন, তার থেকে সরে এসে তিনি এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ অনুসরণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শীতলতা আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মূলত ট্রাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। রুটের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ন্যাটো এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি সমর্থন করতে প্রস্তুত, তবে কোনো সার্বভৌমত্বের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা না করা হয়েছে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ট্রাম্পের নতুন অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ডেনমার্ক কোনো আপস করবে না। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ডেনমার্কের জন্য গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা অগ্রাধিকার, এবং ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নরম দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটো ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার একটি কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের স্বয়ংসম্পূর্ণতা রক্ষার জন্য ডেনমার্কের দৃঢ় অবস্থান অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতির রূপরেখা তৈরির জন্য ট্রাম্প ও রুটের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তা পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষেরই উল্লেখযোগ্য যে, এই রূপরেখা গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব এবং উত্তর মেরু অঞ্চলের পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশকে বিবেচনা করে গঠন করা হবে।
এই উন্নয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নীতি পুনর্গঠন এবং ন্যাটোর আর্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা কৌশল পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব হতে পারে। ডেনমার্কের স্পষ্ট অবস্থান এবং ট্রাম্পের নরম দৃষ্টিভঙ্গি একসঙ্গে কাজ করলে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা এবং ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে নিরাপত্তা রূপরেখা তৈরির সমঝোতা, গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর মেরু অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নরম অবস্থান একসঙ্গে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।



