23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পুনরায় চালু, ১২৫ মেগা‑ওয়াট গ্রিডে যুক্ত

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পুনরায় চালু, ১২৫ মেগা‑ওয়াট গ্রিডে যুক্ত

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগা‑ওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট বুধবার রাত ৯টায় পুনরায় চালু হয়েছে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে প্রবেশ করেছে। এই পুনরায় চালু হওয়া ইউনিটটি দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে অবদান রাখবে, বিশেষত শীতকালীন চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে।

প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিকের মতে, ইউনিটটি সম্পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ইউনিটের পুনরায় চালু হওয়া দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।

ইউনিটটি ১৮ জানুয়ারি বয়লারের টিউব ফাটল ঘটার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। টিউবের ক্ষতি দ্রুত মেরামত করা হয়নি, ফলে উৎপাদন থেমে যায় এবং কেন্দ্রের ক্ষমতা হ্রাস পায়। এই ঘটনার পর কেন্দ্রের পরিচালনা দল টেকনিক্যাল রিভিউ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ করে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট ক্ষমতা ৫২৫ মেগা‑ওয়াট, যা তিনটি ইউনিটে বিভক্ত। প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট প্রত্যেকটি ১২৫ মেগা‑ওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগা‑ওয়াট। এই কাঠামো কেন্দ্রকে বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন সমন্বয় করার সুযোগ দেয়।

দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী বন্ধের ফলে কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বিদ্যুৎ বাজারে সরবরাহের ঘাটতি বাড়িয়ে তুলেছে।

তৃতীয় ইউনিটও বর্তমানে ওভারহোলিং কাজের মধ্যে রয়েছে। অক্টোবর মাস থেকে এই ইউনিটের সম্পূর্ণ পরিদর্শন, মেরামত ও পুনঃস্থাপনা কাজ চলছে এবং আনুমানিক দুই মাসের মধ্যে পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওভারহোলিং শেষে ইউনিটটি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করলে কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধার হবে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম ইউনিটের পুনরায় চালু হওয়া স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে। বিশেষত, দেশের জ্বালানি মিশ্রণে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ এখনও উল্লেখযোগ্য, এবং এই ইউনিটের কার্যক্রমে ফিরে আসা বিদ্যুৎ বিক্রেতা ও গ্রাহকদের জন্য স্থিতিশীলতা এনে দেবে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিং খরচ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ এবং তৃতীয় ইউনিটের ওভারহোলিং সময়সূচি দেখায় যে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণে বিনিয়োগের প্রয়োজন। এই ধরনের বিনিয়োগ না হলে ভবিষ্যতে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংক্ষেপে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পুনরায় চালু হওয়া স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে কেন্দ্রের মোট ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ৫২৫ মেগা‑ওয়াট ক্ষমতা পুনরায় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments