সিলেট টাইটানসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের তত্ত্বাবধানে দলটি ২০ জানুয়ারি মিরপুরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলের ছক্কা দিয়ে ৩ উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে। তবে পরের দিন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ১২ রানের পার্থক্যে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে।
এলিমিনেটরে রাইডার্সের স্কোরের পরে সিলেট ৩ উইকেটের পার্থক্যে লক্ষ্য অর্জন করে, যেখানে ক্রিস ওকসের শেষ বলের ছক্কা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেটের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা দেখা যায়; রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১২ রানের পার্থক্যে দলকে পরাজিত করে এবং সিলেটের টুর্নামেন্ট যাত্রা শেষ করে।
মিরাজের ব্যাটিং অবদান দুইটি প্লে‑অফ ম্যাচে মোট ২৭ রান, গড় ১৩.৫ এবং স্ট্রাইকরেট প্রায় ৯১। প্রথম ম্যাচে তিনি ১৮ রান এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ রান যোগ করেন, তবে এই স্কোরগুলো দলকে জয়লাভে যথেষ্ট না হয়।
সিলেটের প্রধান কোচ সোহেল ইসলাম উল্লেখ করেন, টুর্নামেন্টের সূচনা থেকেই দুই ধারাবাহিক ম্যাচের প্রস্তুতির সময়ের অভাব ক্যাপ্টেনের মানসিক স্বস্তিকে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, “অধিনায়কের দায়িত্ব এবং টানা দুই দিনের ম্যাচের চাপ মিরাজকে স্বস্তি দিতে পারেনি।” কোচের মতে, ক্যাপ্টেনের উপর থাকা অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং তীব্র প্রতিযোগিতার পরিবেশ মানসিক ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে।
২০২৫ সালের বিপিএলে মিরাজ খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক হিসেবে ১৪ ম্যাচে ২৭.৩ গড়ে ৩৫৫ রান সংগ্রহ করেন, স্ট্রাইকরেট ১৩২.৯৫ এবং ১৩ উইকেটের সঙ্গে ৭.৭১ ইকোনমি বজায় রাখেন। সেই মৌসুমে তিনি দলের প্রধান স্কোরার এবং গুরুত্বপূর্ণ বলারূপে কাজ করেন।
এই সিজনে সিলেটের হয়ে ১২ ম্যাচে মিরাজ ১০০ রান করেন, গড় ১২.৫ এবং স্ট্রাইকরেট ৯০.৯০, পাশাপাশি ৬ উইকেট নেন এবং ইকোনমি ৯ রেকর্ড করেন। তার পারফরম্যান্সে গত বছরের তুলনায় গড় ও স্ট্রাইকরেট উভয়ই হ্রাস পেয়েছে, যা কোচের মন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের আহ্বানে মিরাজ, লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তরা বিপিএল বয়কট করেন। তবে বয়কটের পরের দিন মিরপুরে ফিরে মাঠে নামার সময় দর্শকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা ও দুয়োধ্বনি শোনা যায়। এই প্রতিক্রিয়া দলের মনোভাব ও ক্যাপ্টেনের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কোচ উল্লেখ করেন।
সোহেল ইসলাম মিরাজের এই বছরের পারফরম্যান্সকে গত বছরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এই সিজনে তার আউটপুট পূর্বের মতো নয়। শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে কেবল দক্ষতা নয়, মানসিক অবস্থা ও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিভিন্ন ধরণের ইস্যু ছিল, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।”
সিলেট টাইটানসের পরবর্তী প্রতিযোগিতা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে দলটি এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে পুনরায় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য রাখবে।



