ইন্ডিয়ার ওপেনার অভিষেক শর্মা ২৪ জুলাই নাগপুরে অনুষ্ঠিত টি‑২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩৫ বলে ৮৪ রান তুললেন, যার স্ট্রাইক রেট ২৪০। তিনি আটটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে এই ইনিংস শেষ করে দলের মোট ২৩৮ রানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই ম্যাচে রিংকু সিং ২০ বলে ৪৪ রান যোগ করেন, আর নিউজিল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপস ৪০ বলে ৭৮ রান করে প্রতিক্রিয়া জানাতে চেষ্টা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত ভারত ৪৮ রনের পার্থক্যে সিরিজ জিতে নেয়।
শর্মা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক ডেবির পর থেকে ৩৪টি স্বীকৃত টি‑২০ ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৬২৮টি ডেলিভারি মুখোমুখি হয়ে ১৯০.৯২ স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন, যার মধ্যে দুইটি শতক এবং সাতটি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স রয়েছে। তার সাম্প্রতিক ৮৪ রান তার সামগ্রিক গড়কে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে এবং টি‑২০তে দ্রুততম ৫,০০০ রানের মাইলফলক অর্জনে সহায়তা করেছে।
শর্মা ২,৯৮৮ বলের মধ্যে ৫,০০২ রান সংগ্রহ করে স্বীকৃত টি‑২০তে সর্বনিম্ন ডেলিভারিতে ৫,০০০ রানের রেকর্ড গড়ে তোলেন, যা ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল (২,৯৪২ বল)কে ছাড়িয়ে যায়। এই অর্জন তাকে টি‑২০ ইতিহাসের অন্যতম দ্রুত স্কোরার করে তুলেছে। এছাড়া, ২০২৪ সালের আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর টি‑২০ বিশ্বকাপের সময় তিনি ৩৩টি ইনিংসে ৮১টি ছক্কা মারার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ছক্কা হিটার হিসেবে শিরোপা জিতেছেন।
ম্যাচের পর শর্মা ব্যাটিং শৈলীর বিষয়ে মন্তব্য করেন, “আমি রেঞ্জ হিটিং করি না, কারণ আমার শারীরিক শক্তি তেমন নয়। আমি টাইমিং‑নির্ভর ব্যাটার, তাই বলের গতি ও কন্ডিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শট বাছাই করি।” তিনি আরও জানান, “প্রতিটি ম্যাচের আগে বা নেট সেশনের সময় আমি পরিকল্পনা করি, যাতে বলের গতি ও বাউন্ডারির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার উচ্চ স্ট্রাইক রেটের পেছনের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
গ্লেন ফিলিপস শর্মার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, “আইপিএলের দ্রুততম বোলারদের বিপক্ষে তিনি এমন ফর্মে আছেন, যা বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কখনও কখনও ভাগ্যের সহায়তা দরকার হয়, তবে শর্মা তার টাইমিং দিয়ে বেশিরভাগ সময় সফল হন।” শর্মার এই মন্তব্য তার আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতির সূচক।
শর্মার ক্যারিয়ারকে সংক্ষেপে বলতে গেলে, তার ব্যাটিং শৈলী শক্তি নয়, বরং সঠিক সময়ে বলকে সংযুক্ত করার দক্ষতা। এই পদ্ধতি তাকে টি‑২০তে দ্রুত রানের গতি অর্জনে সহায়তা করেছে, যা আধুনিক সীমিত ওভার ক্রিকেটে অত্যন্ত মূল্যবান। তার ২৫ বছর বয়সের এই পর্যায়ে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের ইঙ্গিত দেয়।
ইন্ডিয়া টি‑২০ দলের সাম্প্রতিক জয় এবং শর্মার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে আসন্ন সিরিজে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রাখে। শর্মা এবং তার সহকর্মীরা এখনো টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচে কীভাবে পারফরম্যান্স বজায় রাখবে তা সকলের নজরে।



