বিএনপি নির্বাচনী হলফনামায় ২৮৭টি প্রার্থীর তথ্য প্রকাশের পর, ২২৯ জনকে উচ্চশিক্ষিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এর মধ্যে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি ধারী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে, ২০৫ জন প্রার্থীকে ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা দলের অর্থনৈতিক পটভূমি প্রকাশ করে।
নতুন হলফনামা অনুযায়ী, ২৮৭ প্রার্থীর মধ্যে ২২৯ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বে, অথবা পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। পিএইচডি ডিগ্রিধারী আটজন প্রার্থীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে; এরা কিশোরগঞ্জ‑৩, নরসিংদী‑২, কুমিল্লা‑১, হবিগঞ্জ‑১, চাঁদপুর‑১, সিরাজগঞ্জ‑৬, ঢাকা‑১১ ও গাজীপুর‑৩ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।
অবশিষ্ট ২২১ প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি স্তরে সীমাবদ্ধ, আর ২১ জনের এইচএসসি উত্তীর্ণ। তৃতীয় স্তরের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন তিনজন প্রার্থীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ১১ জন প্রার্থী নিজেদের স্বশিক্ষিত ও সাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেছেন, আর পাঁচজনের শিক্ষাগত তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা হলেন কিশোরগঞ্জ‑৩ আসনের মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, নরসিংদী‑২ আসনের আবদুল মঈন খান, কুমিল্লা‑১ আসনের খন্দকার মোশাররফ হোসেন, হবিগঞ্জ‑১ আসনের রেজা কিবরিয়া, চাঁদপুর‑১ আসনের আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সিরাজগঞ্জ‑৬ আসনের এম এ মুহিত এবং ঢাকা‑১১ আসনের এম এ কাইয়ুম, গাজীপুর‑৩ আসনের এস এম রফিকুল ইসলাম। স্বশিক্ষিত হিসেবে তালিকাভুক্ত দুইজন প্রার্থী হলেন মানিকগঞ্জ‑১ আসনের এস এ জিন্নাহ কবীর ও রংপুর‑১ আসনের মো. মোকাররম হোসেন সুজন।
বিএনপির এই প্রোফাইলের ওপর বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে যে, উচ্চশিক্ষিত ও ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ভোটারদের কাছে কী বার্তা পৌঁছে দেবে। তারা উল্লেখ করেছে যে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যবসায়িক পটভূমি ভোটারদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা পরীক্ষা করা দরকার। অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর উপস্থিতি দলকে আধুনিক ও দক্ষ ইমেজ দিতে পারে, যা শহুরে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হলফনামায় আর্থিক তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে; তবে এখানে শুধুমাত্র শিক্ষাগত ও পেশাগত দিকের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, নির্বাচনের পূর্বে দলটি কীভাবে প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন কৌশলে ব্যবহার করবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন হলফনামা প্রকাশের পর, ভোটারদের মধ্যে প্রার্থীর পেশা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক নীতি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো ভোটার আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে। একই সঙ্গে, পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের উপস্থিতি গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপি এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি, প্রার্থীর পটভূমি সম্পর্কে ভোটারকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই তথ্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে প্রার্থীর যোগ্যতা ও নীতিগত দিকগুলোকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনে, এই প্রোফাইলের প্রভাব কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে স্পষ্ট যে, উচ্চশিক্ষিত ও ব্যবসায়ী প্রার্থীর সমন্বয় দলকে বিভিন্ন ভোটার গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে, প্রার্থীর কর্মক্ষমতা ও নীতি বাস্তবায়নই ভোটারদের সন্তুষ্টি নির্ধারণের মূল মানদণ্ড হয়ে উঠবে।



