28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের ডেভসো বক্তৃতায় হামাসের ধ্বংসের হুমকি ও গাজা স্থিতিশীলতা পরিকল্পনা

ট্রাম্পের ডেভসো বক্তৃতায় হামাসের ধ্বংসের হুমকি ও গাজা স্থিতিশীলতা পরিকল্পনা

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা অঞ্চলে হামাসের ওপর কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, যদি হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হয়, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দলটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। এই মন্তব্যের পটভূমি হল মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক শান্তি পরিবেশ এবং গাজা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার আন্তর্জাতিক চেষ্টার প্রেক্ষাপট।

ট্রাম্পের মতে, বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রয়েছে এবং হামাস তাদের অস্ত্র ত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামাসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুই‑তিন দিন থেকে সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে, এবং যদি দলটি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তবে ফলাফল ভয়ানক হবে।

মিশরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাত্তাহ আল‑সিসির সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানান, গাজা পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অন্তত পঞ্চানব্বইটি দেশ অংশ নিতে ইচ্ছুক। এই দেশগুলো প্রয়োজনে হামাসকে নির্মূল করার জন্যও প্রস্তুত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হামাসের সামনে এখন নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই; না হলে তাদের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে।

মার্কিন প্রশাসন গাজা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর গঠনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর সংখ্যা যথেষ্ট হয়েছে বলে জানায়। এই বাহিনীর গঠন ও কার্যক্রমের বিশদ তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে, যা গাজার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার শাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কাতার ও তুরস্কের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার প্রতি কঠোর বিরোধিতা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজার কোনো প্রশাসনিক কাঠামোতে তুরস্ক বা কাতারের প্রভাব স্বীকার করা হবে না। এই অবস্থান গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে।

নেতানিয়াহু ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটনে একটি সফরের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে তিনি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এই সফরটি ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর নেতানিয়াহুর পঞ্চম যুক্তরাষ্ট্র সফর হবে। দু’নেতা গাজার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কী ধরণের সমন্বয় করা যাবে তা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গাজার নিরাপত্তা ও ত্রাণ কাজের জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর গঠনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এই বাহিনীর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি।

ইসরায়েলি সরকার গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনায় কাতার ও তুরস্কের ভূমিকা সীমিত করার জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। নেতানিয়াহু গাজার প্রশাসনিক কাঠামোতে কোনো বিদেশি প্রভাব না থাকার দাবি পুনর্বার জোর দিয়ে বলেন, যা গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার দিক পরিবর্তন করতে পারে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিশ্লেষণ বাড়ছে, তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে গাজার নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পদ গাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে বলে জোর দেন।

গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজার নাগরিকদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী ও মৌলিক সেবার সরবরাহ দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দল এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে এবং গাজার দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করার জন্য বহুপাক্ষিক সমঝোতা গড়ে তুলবে।

ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে, ট্রাম্পের হুমকি ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর গঠন গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতির মূল দিক হয়ে উঠতে পারে। গাজার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, ডেভসোতে ট্রাম্পের বক্তব্য গাজার নিরাপত্তা, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর গঠনকে কেন্দ্র করে একটি নতুন কৌশলগত দিক নির্দেশ করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি নেতার কাতার ও তুরস্কের অংশগ্রহণের বিরোধ গাজার শাসন কাঠামো নিয়ে দ্বিমতকে তীব্র করেছে, যা পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments