মাইক্রোসফট ঘোষণা করেছে যে এক্সবক্স অ্যাপটি এখন সব আর্ম‑ভিত্তিক উইন্ডোজ ১১ পিসিতে ব্যবহারযোগ্য। এই আপডেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি গেম কিনতে, ডাউনলোড করতে এবং স্ট্রিম করতে পারবেন, ফলে আর্ম‑ডিভাইসের গেমিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এই পরিবর্তনটি ডেসেম্বর ২০২৫‑এ প্রকাশিত প্রিজম (Prism) ইমুলেটরের আপডেটের ধারাবাহিকতা, যা x86 ও x64 অ্যাপ্লিকেশনকে আর্ম আর্কিটেকচারে অনুবাদ করে এবং নতুন করে AVX ও AVX2 নির্দেশনা সমর্থন যুক্ত করেছে। এই প্রযুক্তিগত উন্নতি গেমের পারফরম্যান্সকে আরও মসৃণ করে তুলেছে।
এক্সবক্স অ্যাপের মাধ্যমে গেম পাস (Game Pass) ক্যাটালগের ৮৫ শতাংশের বেশি আর্ম পিসিতে চালানো সম্ভব। মাইক্রোসফটের তথ্য অনুযায়ী, এখন অধিকাংশ জনপ্রিয় শিরোনাম আর্ম‑ডিভাইসে কোনো সমস্যাবিহীনভাবে চলতে পারে, যা পূর্বে x86‑ভিত্তিক সিস্টেমের একচেটিয়া সুবিধা ছিল।
অ্যান্টি‑চিট সফটওয়্যার সমর্থনের দিক থেকেও আর্ম‑ডিভাইসকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এপিক গেমসের ইজি অ্যান্টি চিট (Easy Anti Cheat) এখন উইন্ডোজ আর্মে কাজ করে, ফলে অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমের বিস্তৃত লাইব্রেরি ব্যবহার করা যায়। এই দিকটি ভ্যালভের স্টিমওএসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য, যেখানে অ্যান্টি‑চিট সমর্থন সীমিত।
মাইক্রোসফটের আর্ম‑উইন্ডোজ প্রকল্প বহু বছর ধরে চলমান, এবং ২০২৪ সালে চালু হওয়া কপাইলট+ (Copilot+) পিসি প্রোগ্রাম এই প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করেছে। কপাইলট+ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে বেশ কিছু ডিভাইস আর্ম‑চিপে ভিত্তিক, যা ব্যবহারকারীর উৎপাদনশীলতা ও গেমিং উভয়ই লক্ষ্য করে।
কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন সিরিজ এই ডিভাইসগুলোর মূল প্রসেসর, এবং সর্বশেষ মডেলটি সেপ্টেম্বর ২০২৫‑এ প্রকাশিত হয়েছে। স্ন্যাপড্রাগন চিপের উচ্চ পারফরম্যান্স ও শক্তি দক্ষতা আর্ম‑উইন্ডোজ পিসির গেমিং ক্ষমতাকে আরও মজবুত করেছে।
পূর্বে মাইক্রোসফটের হ্যান্ডহেল্ড প্রচেষ্টা প্রধানত এএমডি চিপের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তবে আর্ম সমর্থনের সম্প্রসারণ এবং কোয়ালকমের নতুন চিপের সংযোজন ভবিষ্যতে আর্ম‑ভিত্তিক উইন্ডোজ ১১ হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শীঘ্রই একটি হালকা ওজনের আর্ম‑ডিভাইস বাজারে আসতে পারে।
সারসংক্ষেপে, এক্সবক্স অ্যাপের আর্ম‑সাপোর্ট গেমারদের জন্য নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করেছে। অধিকাংশ গেম পাস শিরোনাম চালানো, অ্যান্টি‑চিট সমর্থন এবং শক্তিশালী ইমুলেশন প্রযুক্তি একত্রে আর্ম‑ডিভাইসকে গেমিং ইকোসিস্টেমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে পারে। ভবিষ্যতে মাইক্রোসফটের আর্ম‑ভিত্তিক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সমন্বয় গেমিং অভিজ্ঞতা ও পোর্টেবিলিটি উভয়ই রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রাখে।



