বর্ডার ২ আগামীকাল মুক্তি পেতে চলেছে এবং টিকিট বিক্রির গতি দেখে দেখা যাচ্ছে যে, দেশের ভিতরে ও বিদেশে উভয় ক্ষেত্রেই দর্শকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে গাল্ফ অঞ্চলের দেশগুলো—বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এতে ছবিটি প্রদর্শিত হবে না। এই দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ‘বিপক্ষের প্রতি বিরোধী’ হিসেবে বিবেচিত বিষয়বস্তু সম্বলিত চলচ্চিত্রের মুক্তি সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে।
প্রযোজক দল গাল্ফ দেশগুলোর অনুমোদন পেতে বেশ কিছু প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তবে শেষ মুহূর্তে তা ব্যর্থ হয়েছে। মুক্তির এক দিন আগে পর্যন্ত আশা করা হয়েছিল যে অনুমোদন পাওয়া যাবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তা সম্ভবনা কম বলে মনে হচ্ছে।
এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার পূর্বে ধুরন্ধর নামের চলচ্চিত্রও একই অঞ্চলে মুক্তি পায়নি। যদিও ধুরন্ধরের গাল্ফ বাজারে প্রবেশ না করা একটি ক্ষতি, তবে ছবির দেশীয় বক্স অফিসের সাফল্য সেই ক্ষতিটিকে কমিয়ে দিয়েছে।
ধুরন্ধর ঘরে ঘরে টিকিট বিক্রির দিক থেকে চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, ফলে গাল্ফ অঞ্চলে না যাওয়ার ফলে আর্থিক ক্ষতি সীমিত রয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা প্রযোজকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে যে, গাল্ফ বাজারের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ছবির সামগ্রিক আয় উচ্চ হতে পারে।
পূর্বে সান্নি দেউলের গাদার ২ (২০২৩)ও গাল্ফ দেশগুলোতে প্রদর্শনের অনুমতি পায়নি, যা একই ধরণের বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্কের ফলাফল।
২০২৪ সালে হৃৎিক রোশন ও দীপিকা পাদুকোনের ‘ফাইটার’ চলচ্চিত্রটি প্রথমে গাল্ফ দেশগুলোতে নিষিদ্ধ ছিল, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া অন্য সব দেশে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
‘ফাইটার’ ছবিতে পুলওয়ামা হামলার চিত্রায়ণ কিছু পাকিস্তানি গোষ্ঠীর কাছ থেকে ‘বিপক্ষের প্রতি বিরোধী’ এবং ‘সংবেদনশীল বিষয়ের শোষণ’ হিসেবে সমালোচনা পেয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাথমিক অনুমোদন সত্ত্বেও, পরবর্তীতে দেশীয় কর্তৃপক্ষ ছবির মুক্তি স্থগিত করে দেয়। এরপর নির্মাতারা সমস্যাজনক দৃশ্য ও সংলাপ বাদ দিয়ে পুনরায় সম্পাদিত সংস্করণ উপস্থাপন করে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তি এবং দর্শকের উত্সাহ চলচ্চিত্রের মোট আয়কে প্রভাবিত করতে পারে না বলে প্রযোজকরা আশাবাদী। গাল্ফ বাজারে না যাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ হলেও, দেশীয় দর্শকদের সমর্থন দিয়ে ছবির সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, বর্ডার ২ দেশের ভিতরে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পাবে, তবে গাল্ফ দেশগুলোতে এটি দেখা যাবে না। ভবিষ্যতে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব কিনা তা অনিশ্চিত, তবে প্রযোজক দল দেশের ভেতরে দৃঢ় আস্থা নিয়ে ছবির মুক্তি চালিয়ে যাবে।



