হিন্দি চলচ্চিত্রের দুইজন প্রতিষ্ঠিত প্রযোজক, অ্যাটল কাসবেকার এবং তানুজ গার্গ, বর্তমানে রোহিত সারাফ, নিতাংশি গৌল এবং রাশা থাদানিকে নতুন এক তীব্র প্রেমকাহিনীর প্রধান ভূমিকায় নিয়ে আলোচনা করছেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তরুণ দর্শকদের জন্য তাজা রোমান্স উপস্থাপন করা, এবং এখনো পরিচালক নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কাসবেকার ও গার্গের নাম প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালের বায়োড্রামা ‘নীর্জা’ দিয়ে শীর্ষে উঠে আসে, যা বক্স অফিসে সফলতা এবং সমালোচনামূলক স্বীকৃতি পেয়েছিল। সেই সময়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন ধরণের গল্পে হাত দিয়েছেন, তবে এই নতুন প্রকল্পটি তাদের রোমান্স ঘরানার দিকে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
রোহিত সারাফের ক্ষেত্রে, প্রযোজকরা তাকে ‘সফট, রোমান্টিক আকর্ষণ’ সম্পন্ন অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করছেন, যা বর্তমানের অধিকাংশ ‘আলফা’ হিরো চরিত্রের থেকে ভিন্ন। তার জনপ্রিয়তা সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের রোমান্টিক সিরিজ ‘মিসম্যাচড’ এর মাধ্যমে আরও বাড়েছে, যা তরুণ দর্শকের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।
নিতাংশি গৌল এবং রাশা থাদানি দুজনেরই বোলিভুডে সাম্প্রতিক ডেবিউ রয়েছে। গৌল ‘লাপাটা লেডিস’ (২০২৪) এবং থাদানি ‘আজাদ’ (২০২৫) ছবিতে প্রথমবারের মতো মুখ্য চরিত্রে দেখা গেছেন, যা তাদেরকে নতুন প্রজন্মের প্রেমের গল্পের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে। উভয়ের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, ফলে এই ত্রয়ীকে একত্রে দেখা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে।
কাস্টিং প্রক্রিয়ার পেছনে একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, প্রযোজকরা এমন একটি সংমিশ্রণ তৈরি করতে চান যেখানে চরিত্রের স্বাভাবিকতা ও তরুণ হৃদয়ের উত্সাহ একসঙ্গে ফুটে ওঠে। রোহিতের কোমলতা, নিতাংশির তাজা উদ্যম এবং রাশার আত্মবিশ্বাসের মিশ্রণকে তারা ‘নতুন গতিশীলতা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যা গল্পের মূল থিমকে সমর্থন করবে।
পরিচালকের নির্বাচন এখনও অগ্রগতির পথে রয়েছে। প্রযোজকরা এমন একজন পরিচালক খুঁজছেন যিনি চরিত্র-নির্ভর রোমান্সে দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন, তবে এখনো কোন নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। এই ধাপটি সম্পন্ন হলে শুটিং সূচি ও অন্যান্য সৃজনশীল দিকগুলো স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, শুটিং শুরু তারিখ এবং গল্পের বিশদ বিবরণ এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মূল ভূমিকাগুলো নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকি ক্রু ও সৃজনশীল দল গঠনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে।
যদি এই চলচ্চিত্রটি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে এটি হিন্দি সিনেমায় তরুণ-কেন্দ্রিক রোমান্সের ক্রমবর্ধমান তালিকায় একটি নতুন সংযোজন হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘লাভ অ্যান্ড লস’, ‘ক্যাপ্টিভেটেড হার্টস’ ইত্যাদি শিরোনামগুলো তরুণ দর্শকের হৃদয় জয় করেছে, এবং এই নতুন প্রকল্পটি সেই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
প্রযোজকদের এই উদ্যোগটি শিল্পের মধ্যে নতুন প্রতিভা ও তাজা গল্পের সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে, চলচ্চিত্রের সুনির্দিষ্ট দিক ও মুক্তি পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হবে।



